সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র আনছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, একেকটির মূল্য ১৫ লাখ ডলার

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র আনছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, একেকটির মূল্য ১৫ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এবার ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরবর্তী ধাপে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জেএএসএসএম-ইআর ব্যাপকভাবে মোতায়েন করছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত মজুত থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
মার্চের শেষ দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত থেকে সরানোর নির্দেশ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরসহ অন্যান্য ঘাঁটি থেকেও এগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ঘাঁটি এবং যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এই পুনর্বিন্যাসের পর যুদ্ধের আগের ২৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪২৫টি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য অবশিষ্ট থাকবে। এছাড়া প্রায় ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী। জেএএসএসএম-ইআর বা জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল-এক্সটেন্ডেড ৬০০ মাইলের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো যায়।
এ ছাড়া তুলনামূলক স্বল্পপাল্লার জেএএসএসএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের (প্রায় ২৫০ মাইল) বড় অংশও এই যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এখন ইরান যুদ্ধকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় উৎপাদনে বর্তমান সক্ষমতায় কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
এ পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সংখ্যক জেএএসএসএম-ইআর ব্যবহার করেছে। চার সপ্তাহেই এক হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক অভিযানে ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বি-৫২ ও বি-১বি বোমারু বিমান এবং যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যা সেনাদের ঝুঁকি কমালেও দীর্ঘমেয়াদে মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মজুতে থাকা প্রায় ৪ হাজার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে কয়েকশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।সূত্র: এনডিটিভি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!