বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তেহরান নৌপথের শত্রুকে নির্মূল করবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করতে নতুন বিধি-বিধান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আসবে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পারস্য উপসাগরীয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পারস্য উপসাগরকে এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর জন্য এক অপরিহার্য আশীর্বাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই জলরাশি এবং হরমুজ প্রণালি আমাদের পরিচয় ও সভ্যতার একটি অংশকে রূপ দিয়েছে এবং জাতিসমূহের সংযোগস্থল হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য পথ তৈরি করেছে।
তিনি মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই কৌশলগত সম্পদটি বিগত শতাব্দীগুলোতে বহু শয়তানের লোভকে উস্কে দিয়েছে। ইউরোপীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা বারবার আগ্রাসন, নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি অসংখ্য হুমকির ইতিহাস হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের দাম্ভিক শক্তিগুলোর অশুভ চক্রান্তের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। যার সর্বশেষ উদাহরণ মহা শয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) এর সাম্প্রতিক গুণ্ডামি।তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করবে এবং এই জলপথে শত্রুপক্ষের অপব্যবহার নির্মূল করবে ও এই জলপথটি নতুন নিয়মকানুন দ্বারা পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির আইনগত নিয়মকানুন এবং নতুন ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এই অঞ্চলের সকল জাতির কল্যাণে স্বস্তি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে এবং এর অর্থনৈতিক আশীর্বাদ জাতিসমূহের অন্তরকে আনন্দিত করবে; আল্লাহর ইচ্ছায়, যদিও শত্রুরা তা অবজ্ঞা করে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জাতিসমূহ, যারা বহু বছর ধরে দুর্বৃত্ত ও আগ্রাসনকারীদের সামনে তাদের শাসকদের নীরবতা ও বশ্যতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে তারা গত ষাট দিনে নিজ চোখে দেখেছে কিভাবে বিদেশি আধিপত্য প্রত্যাখ্যানের লড়াইয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আইআরজিসির সাহসী সেনারা দৃঢ়তা ও সতর্কতা সঙ্গে লড়াই করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধের পর শুধু বিশ্ব জনমত ও এই অঞ্চলের দেশগুলোর কাছেই নয়, এমনকি বিভিন্ন দেশের শাসকদের কাছেও এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূখণ্ডে আমেরিকান বিদেশিদের উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটি গাড়া ও প্রতিষ্ঠা করাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালে ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো বিধ্বস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তঃসারশূন্য ঘাঁটিগুলোর নিজেদের সুরক্ষিত রাখার মতো সক্ষমতাই শেষ, সেখানে তাদের ওপর তার আঞ্চলিক নির্ভরশীলদের ভরসা করার কোনো সুযোগ নেই।
ছবি-সংগৃহীত,সূত্র : প্রেস টিভি ও বিবিসি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!