ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে আট মাসের যুদ্ধ নতুন করে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়বে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরানে নতুন হামলার সামরিক পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টােবর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ভ্যান্স। কাতারের মধ্যস্থতায় পাঠানো ওই প্রস্তাবে শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টােবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তেহরানে আলোচনা চালিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অস্ত্রের মজুত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে, এমন কিছু ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করছেন, ভ্যান্সের উদ্যোগ যুদ্ধ এড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। আবার তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার মতো প্রভাব ভ্যান্সের রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মনে করা হচ্ছে, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে রেজাইয়ের সঙ্গে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, দেশটির সাতটি শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
অন্যদিকে, ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্প কোনোভাবেই এই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে দেবেন না।
নির্বাচনের পর বাড়তে পারে উত্তেজনা
অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের হামলার নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান জোরদার হতে পারে। আবার নির্বাচনের ফল যাই হোক, স্বল্পমেয়াদে মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের অনাস্থার পেছনে রয়েছে আগের অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন দফার ঠিক আগে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েল। পরে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারিও জেনেভায় আলোচনার মাত্র দুই দিন পর ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ফলে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি নেওয়াকে সন্দেহের চোখে দেখছে তেহরান।
সমঝোতার পথে প্রধান বাধা-সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে মতবিরোধ, এমনটিই মনে করা হচ্ছে। ইরান দ্রুত নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার চায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে নিশ্চয়তা চাইছে।
এদিকে ইরানও সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।তবে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট ও শর্তগত মতবিরোধ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে, নাকি সংঘাত আরও বাড়বে, তা এখনও অনিশ্চিত।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :