সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ভোট না দিলে ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকি : পারমাণু হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১০:২১ পিএম

ভোট না দিলে ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকি : পারমাণু হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এক বিতর্কিত বার্তা দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরায়েলিরা ‌‘দ্বিতীয় হোলোকস্টের’ মুখোমুখি হতে পারে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি।

রবিবার নেতানিয়াহু ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ইউভাল ব্লুমবার্গের লেখা একটি পোস্ট শেয়ার করেন। ব্লুমবার্গ প্রযুক্তি খাতের সাবেক কর্মী এবং অস্‌লো চুক্তির বিরোধী হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গের করা ওই পোস্টে পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর পারমাণবিক মাশরুম ক্লাউড বা ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে তেল আবিব শহর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার একটি এআই ছবি যুক্ত ছিল।

নেতানিয়াহুর শেয়ার করা পোস্টে বলা হয়, ইসরায়েল বর্তমানে এক ‘বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব সংকটের’ মুখে দাঁড়িয়ে আছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে অন্য কোনো কিছুই আর গুরুত্ব পাবে না। ইরান ও শিয়া অক্ষের অস্তিত্বগত হুমকির সামনে বাকি সব ফিকে হয়ে যায়।

পোস্টে আরও দাবি করা হয়, সরকার সম্পর্কিত বর্তমান বিতর্কগুলো—যার মধ্যে কাতারগেট কেলেঙ্কারি এবং আল্ট্রা-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের খসড়া সামরিক ছাড় সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন রয়েছে—তা আসল সংকট ঢেকে রাখার একটি ‘ধোঁয়াশা’। এতে প্রশ্ন তোলা হয়, মধ্য ইসরায়েলে যদি দুটি পারমাণবিক বোমা পড়ে, তবে এসব অর্থহীন বিতর্ক নিয়ে কার কী আসে যায়?

বার বার্তায় বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালেই ইরানকে মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে ইসরায়েলের। এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মাফ করবে না বলে সতর্ক করা হয়। একই সাথে দাবি করা হয়, ইরানকে মোকাবিলা করতে অক্ষম কোনো নেতাকে নির্বাচিত করলে নাগরিকরা পরিবারকে ‘দ্বিতীয় গণহত্যার ঝুঁকির’ মুখে ফেলবে—যার পরোক্ষ অর্থ হলো কেবল নেতানিয়াহুই এই পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম।

তবে নেতানিয়াহুর এই পোস্টটি তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে গত মাসসহ ২০২৫ ও ২০২৬ সালে তেহরানের সাথে সংঘাতের পর নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছে। গত মার্চেও এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরান আর তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারবে না।

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে প্রভাবিত বা পিছিয়ে দিতে নেতানিয়াহু পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উস্কে দিচ্ছেন বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, আইডিএফ (ওউঋ) চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির সম্প্রতি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানান, নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর মতো কোনো কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না।

ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিরোধীরা
নেতানিয়াহুর এমন কাণ্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও ‍‍`ইয়াশার‍‍` পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইসেনকোট এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, নেতানিয়াহু, আপনি মানসিকভাবে অস্বাভাবিক (হিস্টেরিক্যাল) হয়ে পড়েছেন। প্রতি নির্বাচনের মতো এবারও সেই একই মিথ্যা ও ভীতি প্রদর্শনের কৌশল। এবার ইসরায়েলিদের গণ ধ্বংসের ভয় দেখানো হচ্ছে—তা-ও আবার ইরানে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর।

তিনি আরও যোগ করেন, আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। দু‍‍`দিন পর ব্যালট বাক্সে ইসরায়েলের জনগণ আপনাকে সেটি বুঝিয়ে দেবে।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান লিখেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বোমার ছবি প্রকাশ করেছেন। তাকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। এই লোক ও তার চারপাশের সঙ্গীরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন।

‍‍`বিয়াচাদ‍‍` পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি (নেতানিয়াহু) আমাদের সন্তানদের জন্য এই চিত্র আঁকছেন। তিনি দাবি করছেন কেবল তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকলেই আমরা বাঁচতে পারব, হেরে গেলে আমরা মরে যাব—যা একটি বড় মিথ্যা। নেতানিয়াহুর আগেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে এবং শক্তিশালী হয়েছে, তার পরেও থাকবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিড বলেন, নেতানিয়াহু মূলত জনগণকে বলছেন ইসরায়েল ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে, অথচ তিনি নিজেই আমেরিকান নিরাপত্তা সহায়তা বাদ দেওয়া এবং অর্থনীতি ধ্বংসকারী নিষেধাজ্ঞার কাছে নতি স্বীকার করার পথ বেছে নিয়েছেন।ছবি-সংগৃহীত, সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!