রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজার যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

গাজার যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে

ডেইলি খবর ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখছে। ছবি : এএফপি
গাজায় পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, অংশীজনরা যুদ্ধ-পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে কয়েক মাস সময় ব্যয় করেছেন। রাজনৈতিক সমঝোতা, নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং টেকসই অর্থায়নের অনুপস্থিতিতে শাসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করলেও তা এখনো বহুলাংশে তাত্ত্বিক পর্যায়েই রয়ে গেছে।২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিকের আবাসস্থল এই বিধ্বস্ত অঞ্চলটি পুনর্গঠনের চেষ্টায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো যেসব প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তার কিছু এখানে তুলে ধরা হলো-

নিরাপত্তার উদ্বেগ-আলোচনাধীন প্রতিটি যুদ্ধ-পরবর্তী দৃশ্যপটের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা।

ইসরায়েলের জেদ হলো, কোনো ধরনের অগ্রগতি হওয়ার আগে হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

তবে, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের পরিকল্পনাগুলো এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে এখন আর পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।

দক্ষিণের রাফাহ-তে একটি পরীক্ষামূলক ‘মানবিক অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরো পরিকল্পনাটি করা হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে। আমরা আলোচনা থেকে কিছুই পাচ্ছি না, কিন্তু তবুও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

গাজায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তার জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ বা সংক্ষেপে আইএসএফ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চারটি দেশ—মরক্কো, কসোভো, আলবেনিয়া এবং কাজাখস্তান—এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

কেরেম শালোম ক্রসিংয়ের পাশে একটি লজিস্টিক বেস বা রসদ ঘাঁটি প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। গাজায় মোতায়েন করার আগে এখানে প্রায় ৫০০ সেনার একটি প্রাথমিক দলকে রাখা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি আরও জানান, একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর জন্যও প্রস্তুতি চলছে, যার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

তবে কয়েকজন কূটনীতিক এবং নিরাপত্তা সূত্র এই প্রক্রিয়াটিকে স্থবির হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একটি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, প্রশিক্ষণ এখনো শুরুই হয়নি এবং ইসরায়েল তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পর নিয়োগপ্রাপ্তদের বর্তমান তালিকাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মূল যুক্তি হলো, প্রস্তাবিত পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্যের বাহিনী গাজার জন্য বেশি বড়।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, এ অঞ্চলে প্রতিদিন সহিংসতা লেগেই রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং সেই অভিযোগ জানিয়ে তারা প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

নামমাত্র পুনর্গঠন-গাজার মানবিক প্রয়োজনগুলো এখনো চরম পর্যায়ে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, পুনর্গঠন কাজে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে, কারণ গাাজায় নির্মাণ সামগ্রী এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর যন্ত্রপাতির তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

বোর্ড অব পিস-এর মতে, দাতাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া সত্ত্বেও, প্রত্যাশিত তহবিলের বেশিরভাগ অংশ এখনো ছাড় করা হয়নি।

‘আমরা বর্তমানে এমন একটি তহবিল নিয়ে কাজ করছি যা আপাতত আমাদের চাহিদা পূরণ করছে,’ এ কথা উল্লেখ করে বোর্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি একাধিক মানবিক অঞ্চল তৈরি করতে হয়, তবে ‘আমাদের নিশ্চিতভাবেই আরও তহবিলের প্রয়োজন হবে।’

ওই কর্মকর্তাটি এই সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, বোর্ড বর্তমানে রাফাহ-তে একটি পরীক্ষামূলক মানবিক অঞ্চলের পরিকল্পনা করছে, যা পরিচয় যাচাই করা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জন্য বাসস্থানের যোগান দেবে।

কোনো শাসনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নেই-হামাস সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজি-এর কাছে হস্তান্তর করতে চায়। বোর্ড অব পিস কর্তৃক গঠিত এই কমিটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে তৈরি, যাদের কাজ একটি অন্তর্র্বতীকালীন সময়ে দৈনন্দিন শাসনকাজ তদারকি করা।

কিন্তু এনসিএজির সদস্যরা এখনো গাজায় প্রবেশ করতেও সক্ষম হয়নি। বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল এই কমিটিকে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে।

ইসরায়েলের কাছে, হামাসের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়াটাই যথেষ্ট নয়; গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণের দীর্ঘদিনের দাবিতে তারা অনড়।

এছাড়া, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যৎ ভূমিকাও এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ-ভিত্তিক (যা গাজা উপত্যকা থেকে একটি পৃথক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনিদের একমাত্র স্বীকৃত প্রতিনিধি হিসেবে রয়ে গেছে।

এনসিএজি-কে পুরো উপত্যকা জুড়ে মৌলিক পরিষেবাগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি অস্থায়ী সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন যে এটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!