মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যালনের মঞ্চে স্পেনের আধিপত্য, তবুও ‘দুর্ভাগা’ স্পেন!

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

ব্যালনের মঞ্চে স্পেনের আধিপত্য, তবুও ‘দুর্ভাগা’ স্পেন!

স্পোর্টস ডেস্ক :প্রথমবার লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের আয়োজন। মূল আলোটাও কেড়ে নিলেন স্বাগতিক ইংল্যান্ড পুরুষ জাতীয় দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে অনুষ্ঠানজুড়ে আধিপত্য ছিল স্পেনের। মোট ১৩টি পুরস্কারের আটটিই গেছে দেশটিতে। তবে স্প্যানিশরা নিজেদের দুর্ভাগাও ভাবতে পারে!
পুরুষ ‍ও নারী ফুটবলের দুই ব্যালন ডি’অরের একটি গেছে স্পেনে। বার্সেলোনার সাবেক তারকা ও বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়নেস ক্লাবের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস নারী ফুটবলে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। নারী-পুরুষ উভয় বিভাগে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারজয়ী দুজনেই স্প্যানিশ– উনাই সিমোন (অ্যাথলেটিক ক্লাব ও স্পেন) ও কাটা কোল (বার্সেলোনা ও স্পেন)।

সেরা দুই কোচও স্পেনের। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের বড় পুরস্কার পেলেন ইয়ামাল-রদ্রিদের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ তিনি। আর মেয়েদের ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার পুরো বছরটাই ছিল শিরোপাময়। উয়েফা ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর লা লিগাসহ স্পেনের ঘরোয়া ট্রেবল জেতা দলটির কোচ পেরে রোমেউ মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন।

ছেলে ও মেয়েদের ফুটবলে সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় দুজনও স্প্যানিশ। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ও বার্সেলোনার লা লিগাজয়ী তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল টানা তৃতীয়বার জিতলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। আর বার্সেলোনা নারী দলের শিরোপাময় বছর নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হলেন ভিকি লোপেজ। এ ছাড়া নারী ফুটবলে সেরা দল হিসেবেও বার্সেলোনা পুরস্কৃত হয়েছে।

এত পুরস্কারের মাঝেও স্পেন কেন নিজেদের দুর্ভাগা ভাবছে সেই প্রশ্ন অজানা মানুষদের কাছে এসেছে। তবে ব্যালন ডি’অরে চোখ রাখা ফুটবলভক্তরা সেটা হয়তো আঁচ করতে পারছেন। এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবীদার ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু তার বিশ্বকাপ জয়টাও এক্ষেত্রে যথেষ্ট হলো না। ব্যালনের দৌড়ে ভোটাভুটিতে তিনি শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েছেন। এ ছাড়া স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে খেলা কিলিয়ান এমবাপেও কোনো পুরস্কার জেতেননি। যদিও তিনি লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর বিশ্বকাপেও রেকর্ড সর্বোচ্চ গোল করেছিলেন।

এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপ জয় সত্ত্বেও ব্যালন ডি’অর জেতেনি স্পেনের কেউ। তবে ওই সময় দেশটির ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে রাজত্ব চলছিল লিওনেল মেসি। ব্যালন ডি’অরেও এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং জাবি হার্নান্দেজকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন। ২০২৬ সালেও একই চিত্র দেখা গেল। ব্যালন জয়ের ক্ষেত্রে যদিও বিশ্বকাপজয়ী দলের কেউই বড় দাবিদার হয়ে থাকেন।

স্পেন আবারও সম্ভবত এমন একটি অসাধারণ দল হিসেবেই সীমাবদ্ধ রইল, যেখানে কোনো একক ও অবিসংবাদিত তারকা খেলোয়াড় ছিল না। বিশেষ করে টুর্নামেন্টজুড়ে ইয়ামালের পারফরম্যান্সও ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা নিচে। তিনি অবশ্য বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে ইনজুরি থেকে ফিরেছিলেন। একটি করে গোল-অ্যাসিস্ট তার নামের সঙ্গে মানানসই না হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই তারকা।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!