স্পোর্টস ডেস্ক: কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেনে। ওয়াংখেড়েতে রান উৎসবের রেশ এখনও কাটেনি। ৪৯৯ রানের সেই ম্যাচের পর বন্দনা চলছে ভারতের ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের। আর সেঞ্চুরি করা ইংল্যান্ডের তরুণ প্রতিভা জ্যাকব বেথেলের জন্য চলছে শোকগাথা। তবে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন মজেছেন কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেনে। ফাইনালে তিনিই নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেন বলে বিশ্বাস ভনের।
ফিন অ্যালেনকে এত দিন নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে মারকুটে ওপেনার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সমীহ জাগানো বোলিং আক্রমণকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে রেকর্ড ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করার পর তাঁকে সময়ের সেরা বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান হিসেবেও অনেকে মর্যাদা দিচ্ছেন। টি২০ বিশ্বকাপে আগের দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ছিল ক্রিস গেইলের। ২০১৬ বিশ্বকাপে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি করেছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।
গত বুধবার ফিন অ্যালেন ৮টি ছয় ও ১০টি চারে গেইলের সে রেকর্ড ভেঙে দেন। তাঁর জন্যই কিউইরা আগামী রোববার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখছে।
শক্ত-সামর্থ্য ও দৈহিক গড়নের জন্য অ্যালেনকে বেসবল তারকার মতো মনে হয়। মাইকেল ভন তো তাঁকে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু হেইডেনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ‘ক্রিকবাজে’ লেখা এক কলামে তিনি অ্যালেনকে দানব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, ‘ম্যাথু হেইডেন শারীরিক গঠন দিয়ে বোলারদের ভড়কে দিতে পারতেন। গ্রেইম স্মিথও (সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান) কিছু দিন তেমনটা করতে পারতেন। আমার মনে হয় ফিন অ্যালেন এখন এটা পারেন। বোলার যখন বল হাতে দৌড় শুরু করে, তখন দেখে ব্যাট হাতে এক দানব দাঁড়িয়ে আছে। উল্কি আঁকা পেশিবহুল শরীর দেখে বোলারের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠার অবস্থা হয়। ফাইনালেও তিনি এমন কিছু (সেঞ্চুরি) করতে পারেন।’
অকল্যান্ডে জন্ম নেওয়া অ্যালেন সেমির আগে পুরো আসরে মাত্র একবার ঝলক দেখিয়েছেন। আরব আমিরাতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেদিন ১০ উইকেটে জিতেছিল কিউইরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিতে তাঁর সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে জিতেছে। যার মানে, অ্যালেনের ব্যাটে বল লাগা শুরু হলে প্রতিপক্ষ স্রেফ উড়ে যায়। অ্যালেনের বিধ্বংসী ক্ষমতা ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রথম নজরে আসে ২০২৪ সালে। সেদিন ডানেডিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ ম্যাচে ১৬ ছক্কায় ৬২ বলে ১৩৭ রান করেছিলেন তিনি। ইডেন গার্ডেন্সে ৬১ বলে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী এ ব্যাটারের দুর্বলতা হলো তিনি ধারাবাহিক নন। এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে ভারত।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :