সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঐতিহাসিক গোলেও স্বস্তিতে নেই কুরাসাও, প্রথমার্ধে জার্মানির তিন গোল

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১২:০৫ এএম

ঐতিহাসিক গোলেও স্বস্তিতে নেই কুরাসাও, প্রথমার্ধে জার্মানির তিন গোল

স্পোর্টস ডেস্ক: এবারের বিশ্বকাপের অভিষেক মঞ্চে রূপকথার মতো এক মুহূর্ত উপহার দিয়েছিল কুরাসাও। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে তখন নীল জার্সিধারী সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয়েছিল আবেগঘন এক দৃশ্য। কিন্তু অভিজ্ঞতার ঝুলি আর সামর্থ্যের পার্থক্য শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে স্পষ্ট করে দিয়েছে জার্মানি। বিরতিতে যাওয়ার আগে আরও দুই গোল করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইউরোপের পরাশক্তিরা।
রোববার (১৪ জুন) ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। কুরাসাওকে চাপে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। তারই ফল মেলে মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর বক্সের ভেতর বল পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ফেলিক্স এনমেচা। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই এগিয়ে যায় জার্মানরা।
শুরুটা দেখে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা কুরাসাওয়ের জন্য অপেক্ষা করছে এক কঠিন রাত। কিন্তু ছোট্ট দেশটির ফুটবলাররা যেন অন্য এক গল্প লেখার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। জার্মানদের আক্রমণের চাপ সামলে ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয় তারা। আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকলে পাল্টা আক্রমণেও উঠে আসে কুরাসাও।
এরপর আসে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। ম্যাচের ২১তম মিনিটে জার্মান রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেসিয়া। বক্সের ভেতর থেকে তার নেওয়া বাঁ পায়ের শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। বল জড়িয়ে যায় জালে, আর সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয় ইতিহাস।
এটি ছিল শুধু জার্মানির বিপক্ষে সমতার গোল নয়; বিশ্বকাপের মঞ্চে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলও। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উল্লাসে যেন কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। নীল জার্সিধারীদের সেই আনন্দে মিশে ছিল বিস্ময়, আবেগ আর স্বপ্নপূরণের অনুভূতি। প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষের দেশ কুরাসাও এবারই প্রথম বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে আসরে নামার পর প্রথম গোল করেই তারা নিজেদের নাম লিখিয়েছে রেকর্ডের পাতায়।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি জার্মানি। কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক সমতার গোলের ১৭ মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে একেবারে বাধাহীন হেড করেন নিকো শ্লটারবেক। কুরাসাও গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। স্কোরলাইন তখন ২-১, আবারও সামনে জার্মানি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আরও বড় ধাক্কা খায় কুরাসাও। অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ভেতর ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি কাই হাভার্টজ। ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলের ব্যবধান বাড়িয়ে নেন তিনি। তার গোলেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!