স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। দেড় দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়া এই টেস্টে উইকেট পড়েছে ক্ষণে-ক্ষণে। ম্যাচ শেষে ভেন্যুটির অস্বাভাবিক পিচ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড।
মাত্র দুই দিনের কম সময়ে, ১২৫ ওভারের মধ্যেই ৩০ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর থেকেই পিচের মান নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করেন মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংসে বাংলাদেশ দল মাত্র ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন সর্বোচ্চ ৬৭ রান করলে দল সংগ্রহ করে ২১০ রান।
`ফর দ্য লাভ অফ ক্রিকেট` ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে মাকাইতে এমন বোলার-বান্ধব পিচ তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রড। সাবেক এই ইংলিশ পেসারের মতে, শক্তিশালী কোনো সফরকারী দলের বিপক্ষে এমন উইকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্যই পরবর্তীতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ব্রড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে এক ইনিংসে হারিয়ে সিরিজ ১-১ ড্র করেছে ঠিকই, তবে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। স্টার্ক আবারও তার গতি ও সুইংয়ে দারুণ পারফর্ম করেছে, আর পিচজুড়ে বল অসমান বাউন্স ও সিম করেছে। দেখে মনে হচ্ছে এই বছরের পিচগুলো বড্ড অনিয়মিত আচরণ করছে, যার মানে দলগুলোকে আর কেবল স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।’
স্টুয়ার্ট ব্রড আরও বলেন, ‘আমার মতে, আপনি যদি এমন একটি দল হন যারা মনে করেন প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনার খেলোয়াড়েরা মানসিকভাবে বা দক্ষতার দিক থেকে এগিয়ে, তবে আপনার ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা উচিত। বাংলাদেশ যদি টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিত, তবে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় বিপদে ফেলে দিতে পারত। পিচে যেভাবে বল নড়াচড়া করছিল এবং সিম হচ্ছিল, তাতে এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় একটা জুয়া বা ঝুঁকি ছিল।’
ম্যাকই টেস্টটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৭৫০টি বল, যা পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। এছাড়া এটি ছিল ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার শেষ সাত ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় কোনো ম্যাচ, যা মাত্র দুই দিনের মধ্যে শেষ হলো (এর আগে ২০২৫-২৬ অ্যাশেজের সময় পার্থ ও মেলবোর্নেও এমন দ্রুত সমাপ্তি দেখা গিয়েছিল)।
অস্ট্রেলিয়ার সামনের ব্যস্ত ও কঠিন সূচির আগে মারনাস লাবুশেনের দীর্ঘ সময় ধরে চলা বাজে ছন্দ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ব্রডের মতে, দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক রান না পাওয়ায় তিন নম্বর পজিশনে লাবুশেনের স্থান এখন তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্রড আরও বলেন, ‘স্টার্ক বল হাতে তুলে নিয়েই ত্রাস সৃষ্টি করেছিল এবং প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ জেতাত সাহায্য করেছিল। তবে লাবুশেন আবারও রান পেল না, এবং আমি মনে করি তিন নম্বর পজিশনে এখন তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে সে মাত্র ২৫-এর নিচে গড়ে রান পাচ্ছে, যা একজন টপ-অর্ডার ব্যাটারের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ সময়।’সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :