স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো না হলেও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ব্যাটে ভর করে মালয়েশিয়ার সামনে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এরপর বাকি কাজটা করলেন বোলাররা। এক পারভেজ হোসেন জীবনের স্পিন ঘূর্ণিরই জবাব খুঁজে পেলেন না সফরকারী ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেল দেড়শ ছোঁয়ার আগেই। এতে বড় জয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। জবাব দিতে নেমে ৪০.৫ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে মোটে ১৩৭ রান তুলতে পারে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ জয় পায় ১৫৩ রানের বড় ব্যবধানে। এতে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিং তোপে পড়ে মালয়েশিয়া। নিয়মিত বিরতিতে হারিয়েছে উইকেট। টাইগার বোলারদের কোনো জবাবই খুঁজে পায়নি সফরকারী ব্যাটাররা। একাই পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন জীবন।
দলীয় ১১ রানের মাথায় প্রথম আঘাত হানে বাংলাদেশ। ওপেনার আসলাম খানতে ফেরান মাহফুজুর রহমান রাব্বি। ২০ বল খেলে মোটে ৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তিন নম্বরে মুনিয়ান্দিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফেরান। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১ রান।
সেই ধাক্কা আর পুরো ইনিংসে সামলাতে পারেনি সফরকারীরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে হারিয়েছে উইকেট। একপ্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার সাইফও আর বেশি সময় টিকতে পারেননি। ৩৮ বলে ২১ রান করে জীবনের শিকার হন তিনি।
বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে শেষদিকে লড়াই করেন আট নম্বরে নামা জুলকিফল। তার ব্যাটেই কিছুটা আশা দেখছিল সফরকারীরা। বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ এই ব্যাটারকেও ফেরান জীবন। ফেরার আগে ৬৬ বলে ৪২ রান করেন তিনি।
এরপর মালয়েশিয়ার হারের ব্যবধান কমাতে থাকা জুনাইদকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ের লেজ কেটে দেন জীবন। ২৬ বলে ২১ রান করা এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ফাইফার। মালয়েশিয়া থামে ১৩৭ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে ৭.৫ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট শিকার করেন জীবন। সমান দুটি করে উইকেট নেন স্বাধীন আর মারুফ মৃধা। একটি উইকেট যায় রাব্বির ঝুঁলিতে।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১১ রানের মধ্যেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ৮ বল থেকে মাত্র ৫ রান করে বিদায় নেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার। তিন বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার ইকবাল হাসান। একই পথের পথিক হন চার নম্বরে নামা রিজান হোসেন। ৪ বল খেলে ফিরেছেন শূন্য হাতে।
সেখান থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তিন নম্বরে নামা কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন আর শাহরিয়ার সাকিব। ৪০ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। শাহরিয়ার ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ফেরার আগে ২৬ বলে ২১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি অ্যালিন। রানআউট হয়ে ফেরেন ৫৬ বলে ৩৪ রান করে।
শাহরিয়ার-অ্যালিন ফেরার পর দায়িত্ব কাধে তুলে নেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। আহরার আমিন পিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে বড় রানের আশা দেখান তিনি। হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার। কিন্তু নার্ভাস নাইন্টিতে ফিরেছেন আফসোস নিয়ে। শেষ পর্যন্ত আব্দুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ১০০ বলে ৯৪ রান।
মাঝে হাফসেঞ্চুরি করে ফেরেন পিয়ান। ৬২ বলে ৬১ রান করেন এই ব্যাটার। আর শেষদিকে ১৮ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে বাংলাদেশের রান তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যান পারভেজ হোসেন জীবন।ছবি: সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :