স্পোর্টস ডেস্ক: আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বোলারদের নৈপুণ্যে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়েছে আফগানরা। জিততে হলে শেষ দিনে তাদের আরও ৩৪৭ রান করতে হবে, হাতে রয়েছে ৭ উইকেট।
দিনের শেষ দিকে আফগান অধিনায়ক রহমত শাহকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি দিয়েছেন ইবাদত হোসেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা রহমত দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছিলেন অর্ধশতক। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ইবাদতের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৬ রানে থাকার সময় জীবন পাওয়া রহমত শেষ পর্যন্ত ৫০ রান করে বিদায় নেন।
দিন শেষে সেদিকুল্লাহ অতল ১২৬ বল খেলে ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। তার সঙ্গে ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন হাশমতউল্লাহ শাহীদি।
এর আগে লিটন দাসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দলের লিড দাঁড়ায় ৪৭৮ রানে। লিটন খেলেন ১০২ রানের ইনিংস। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন।
সপ্তম উইকেটে লিটন ও মিরাজের ১৪৯ রানের জুটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিরাজ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১১তম টেস্ট অর্ধশতক। চাপের মুখে এই দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর দৃশ্য আবারও দেখা গেল।
ব্যাট হাতে দারুণ ইনিংস খেলার পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও রেকর্ড গড়েছেন লিটন। ম্যাচে তার মোট ডিসমিসাল দাঁড়ায় আটটি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড এখন তার দখলে। এর আগে ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ সাতটি ডিসমিসাল নিয়ে রেকর্ডটি গড়েছিলেন।
এ ছাড়া একই টেস্টে সেঞ্চুরি, অর্ধশতক ও আটটি ডিসমিসাল পূর্ণ করে টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে অনন্য কীর্তি গড়েছেন লিটন।
লিটনের ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন কাট, ড্রাইভ ও পুল শট। তবে কয়েকবার জীবনও পেয়েছেন তিনি। ১৪ রানে স্লিপে শহিদুল্লাহ এবং ২৬ রানে নিজের বলে ক্যাচ ফেলেন কায়েস আহমেদ। ৬৭ রানে ইনসাইড এজে আউট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচে যান লিটন। ততক্ষণে রিভিউ শেষ হয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তানের।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশ। ইবাদতের ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আবদুল মালিক। পরে হাসান মাহমুদের শর্ট বলে ক্যাচ দেন শহিদুল্লাহ, তার সংগ্রহ ১৯ রান।
রহমত ও অতল এরপর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইবাদতের আঘাতে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। রহমতের উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছেন এই পেসার। শেষ দিনে বাকি ৭ উইকেট তুলে নিতে পারলে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ার সুযোগ থাকবে টাইগারদের।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :