বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অবশেষে মিরাজের হাত ধরে আসল টাইগারদের সাফল্য

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

অবশেষে মিরাজের হাত ধরে আসল টাইগারদের সাফল্য

স্পোর্টস ডেস্ক: নিজের প্রথম রানের জন্য ৪৫ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন ইসমত আলম। ম্যাচ বাঁচাতে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় ব্যাটিং করছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। অসাধারণ ধৈর্য যেমন দেখাচ্ছিলেন, ঠিক তেমনই তার ভাগ্য তাকে করছিল সহায়তা। উইকেটের নাগাল দিয়ে একাধিক বল বেরিয়ে যায়। তার ব্যাটের খুব কাছে গিয়ে বল হালকা বাক খেয়ে যায়। বাংলাদেশের বোলাররা রীতিমত বিরক্ত হয়ে উঠছিলেন এই ব্যাটারের ওপর।

শেষ পর্যন্ত উইকেট আগলে রাখা এই ব্যাটারকে ফেরালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি অফস্পিনারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইসমত। লিটনের হাঁটুতে লেগে বল হাওয়ায় ভেসে উঠে। বাংলাদেশের দলপতি পেছনে দৌড়ে গিয়ে বল তালুবন্দি করেন। তাতে ভাঙে সেদিকুল্লাহ অতল ও ইসমতের করা ১২৩ বলে ৪০ রানের জুটি। ইসমত ৬০ বল খেলে করেন ৪ রান।  

সেঞ্চুরি পাওয়া সেদিকুল্লাহ অতল ১০২ রানে ক্রিজে আছেন। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন হাশমতউল্লাহ শাহীদি। ৫ উইকেটে আফগানিস্তানের রান ২৫১। জয়ের জন্য তাদের এখনও করতে হবে ২৮৮ রান।  

প্রথম রানের দেখা পেতে ৪৫ বল লাগল আফগানিস্তানের ব্যাটার ইসমত আলমের। উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে ম্যাচ ড্র করতে চাইছে আফগানরা। তাইতো রান তোলার তেমন তাড়া নেই। অবশ্য প্রথম রান করতে এটিই সবচেয়ে বেশি বল খরচ করার ঘটনা নয়।  এর আগে প্রথম রান পেতে জন মুরের ৭৯ বল ও চেতেশ্বর পুজারার খেলতে হয়েছে ৫৩ বল। ইসমত এই তালিকায় তৃতীয়।

৯৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৩ রান আফগানিস্তানের। এখনো বাকি প্রায় দেড় সেশনের খেলা। আফগানদের দরকার ২৪৬ রান, বাংলাদেশের ৬ উইকেট। আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি সেদিকুল্লাহ আতাল। কিন্তু ৭০ রানের মাথায় তাকে আউট করার সহজ সুযোগ নষ্ট করল বাংলাদেশ।

তাইজুল ইসলামের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন আতাল। স্টাম্পিং করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছেন লিটন দাস।

আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ৮৪ ওভারে ২০৮/৪

দ্বিতীয় সেশনের খেলা এখন পর্যন্ত হয়েছে ৫ ওভার। রানও হয়েছে ৫। নতুন বলে আক্রমণে এসেছে হাসান মাহমুদ। সঙ্গে আছেন তাইজুল ইসলাম।

পুরো সেশনে হন্যে হয়ে উইকেট খুঁজছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কোনোভাবেই আসছিল না কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। হাশমতউল্লাহ শাহিদি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরলেও ৬৬ রানের জুটি গড়ে ফেলেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও ইকরাম আলিখিল। শেষ পর্যন্ত ইবাদতের বলে ভাঙে এই জুটি। ইবাদতের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ইকরাম। নতুন ব্যাটার হিসেবে নামেন ইসমাত আলম। পরের ওভারেই লাঞ্চ বিরতি দেন আম্পায়ার।৭৯ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান আফগানিস্তানের। জয়ের জন্য এখনো তাদের দরকার  ২৭৬ রান, বাংলাদেশের চাই ৬ উইকেট। 
হাশমতউল্লাহ শহিদির রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরার পর উইকেটে জমে গিয়েছিল সেদিকুল্লাহ আতাল ও ইকরাম আলিখিলের জুটি। অবশেষে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছেন পেসার ইবাদত হোসেন। তার বলে উড়ন্ত ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস। সঙ্গে  সঙ্গে ইবাদতের সেই চিরচেনা উদযাপন ‘স্যালুট।’

ইকরামের বিদায়ে মাঠে নেমেছেন ইসমাত আলম। পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য তাদের এখনো দরকার ২৭৭ রান, বাংলাদেশের ৬ উইকেট। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ১৮ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি আফগানিস্তান। এরই মধ্যে ফিফটি করে ফেলেছেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। যদিও রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে। উইকেটের জন্য হাপিত্যেশ করছেন বাংলাদেশের বোলাররা। জয়ের জন্য আফগানিস্তানের এখনো দরকার ৩১১ রান আর বাংলাদেশের ৭ উইকেট।

দিনের নবম ওভারের শেষ বলে ইবাদত হোসেনের ডেলিভারি লাগে ইকরাম আলিখিলের গায়ে। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে এ যাত্রায় ব্যর্থ। ৩ উইকেট হারিয়েই দেড় শ পার করেছে বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে রেখে আফগানদের দরকার আরও ৩২৭ রান। মাঠে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকল খেলা। ফিল্ডারের ছোড়া বল এসে শাহিদির প্যাডে আঘাত করার পর তিনি মাটিতে শুয়ে পড়েন। ফিজিও এসে তার চিকিৎসা করেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভুগছেন। একপর্যায়ে প্যাড খুলে ধীরে ধীরে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

শাহিদির চোট আফগানিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তার মাঠে ফেরার অপেক্ষায় এখন সমর্থকেরা। ৩৩ বলে ২০ রান করে ফিরেছেন তিনি। 
আবুধাবি টেস্টে জয়ের সমীকরণটা এখন পরিষ্কার। আজ ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট, আর আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। ৪৭৯ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানরা। সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৫ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি ১৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষে অপরাজিত আছেন।  চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন তারা।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। আফগানিস্তানকে জিততে হলে গড়তে হবে টেস্ট ইতিহাসের নতুন রেকর্ড। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের নজির আছে। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য পেরোতে হলে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে হবে আফগানদের। দলটির নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও মাত্র ১৪৯ রানের।এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শেষ দিনের পিচের চ্যালেঞ্জ। সময় গড়ানোর সঙ্গে উইকেটের অবস্থা বদলে যাওয়ায় ব্যাটিং কঠিন হতে পারে। পিচ থেকে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেলে আফগানিস্তানের রান তাড়ার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে শেষ দিনে জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে বাংলাদেশই।

এর আগে লিটন দাসের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য। লিটনের আগে ফিফটি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটনকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার।

চতুর্থ দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ১০৫.২ ওভারে ৩৭২/৭ ডি.
লিটন ১০২, নাজমুল ৮২, মুশফিক ৮১, মিরাজ ৫২*; সেলিম ২/৬৯, জিয়া ২/৮৬, ইয়ামিন ২/৯৬।
আফগানিস্তান: ২৪০ ও ৫০ ওভারে ১৩২/৩।
রহমত ৫১, আতাল ৩৫*, শহীদি ১৯*; ইবাদত ২/৩২, হাসান ১/৩১।সংগৃহীত ছবি


 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!