বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মেসির শেষ নাচে মাতল আর্জেন্টিনা, বেনিনকে হারিয়ে স্মরণীয় ইতি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

মেসির শেষ নাচে মাতল আর্জেন্টিনা, বেনিনকে হারিয়ে স্মরণীয় ইতি

স্পোর্টস ডেস্ক: বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিতেও নিজের অবিশ্বাস্য ফুটবল জাদুর চূড়ান্ত স্বাক্ষর রেখে গেলেন লিওনেল মেসি। সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর পর এবার নিজেই গোল উৎসবে মাতলেন এই ফুটবল রাজপুত্র। মহাতারকার বিদায়ী উপহারে বেনিনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় উদ্‌যাপন করেছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে আকাশী-নীল জার্সিতে মেসির পাশাপাশি এই ম্যাচটি দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক নিকোলাস ওতামেন্দিও।

বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল কেবলই আবেগ আর স্মৃতিকাতরতার আবহ। ম্যাচের আগে ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত দেখায় মেসিকে। ম্যাচের দশম মিনিটে মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানিয়ে খেলা দুই মিনিটের জন্য স্থগিত রাখেন রেফারি। পুরো স্টেডিয়ামের দর্শক দাঁড়িয়ে ‘ওলে ওলে মেসি’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন। বেনিনের খেলোয়াড় এবং মাঠের সহকর্মীরাও হাত মিলিয়ে ফুটবলের এই রাজপুত্রকে অভিবাদন জানান।

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল পায়নি আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ৪৮তম মিনিটে মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে দারুণ এক ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। গোল করার দুই মিনিট পরই এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থ ও দর্শকদের কাছ থেকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ পান তিনি।

এরপর ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দি পল ও জুলিয়ান আলভারেককে তুলে নিয়ে নিকো পাজ ও নিকোলাস গঞ্জালেসকে মাঠে নামান আলবিসেলেস্তে কোচ। আর মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যেই সেই আস্থার প্রতিদান দেন নিকো পাজ। মেসির অ্যাসিস্টে বলে নিজের প্রথম স্পর্শেই জালের দেখা পেয়ে যান ২২ বছর বয়সী এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বাম দিক থেকে মেসির বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে বক্সের দিকে ঘুরে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর এই তারকা।

জোড়া অ্যাসিস্টের পর স্কোরশিটে নাম লেখান অধিনায়ক মেসিও। ৭১ মিনিটে বেনিন বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি বাঁশি বাজান রেফারি। বল স্পটে বসিয়ে জোরাল গতিতে ওপরের কোণা দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি, যেখানে বেনিন গোলকিপারের ঝাঁপ দেওয়াটাই ছিল ব্যর্থ চেষ্টা। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ১২৬তম এই গোলের পর মেসিকে মাঝে রেখেই কেন্দ্রবৃত্তে দাঁড়িয়ে উল্লাসে মাতেন সতীর্থরা।

এরপরও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও রেফারির শেষের বাঁশি বাজানোর আগ পর্যন্ত আর জালের দেখা পায়নি আলবিসেলেস্তেরা। ফলে মেসির দুই অ্যাসিস্টের পাশাপাশি নিজে এক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠে ছাড়ে স্বাগতিকরা। তবে এই শেষ শুধু আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচের নয়, ভক্তদের হাসিমুখ ও পরম তৃপ্তিতেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি নামের এক অতিমানবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও পরিসমাপ্তি।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!