স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে উইকেট নিয়ে যতটা না দুশ্চিন্তা, তার চেয়ে বেশি ভাবনা জাপানের আবহাওয়া নিয়ে। হঠাৎ করে নামছে বৃষ্টি। যার প্রভাব পড়ছে খেলার ওপরও। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীনের কথাতেও আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবেই হচ্ছে ছেলে, মেয়ে সবারই এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট। যেখানে বাংলাদেশ-চীন নারী ক্রিকেট দলের কোয়ার্টার ফাইনালের একটা বলও মাঠে গড়াতে পারেনি। ছেলেদের ক্রিকেটের দুই ম্যাচেও বৃষ্টির বাগড়ায় ফল আসেনি। পরশু মালয়েশিয়া ম্যাচ সামনে রেখে অনুশীলনও করতে হচ্ছে বৃষ্টির মধ্যে। জাপানে আজ সাংবাদিকদের সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘এখানে আসলে অনুশীলনের খুব বেশি সুযোগ নেই। আপনি যদি ম্যাচ খেলতে পারেন, তাহলে নিজের অবস্থাটা কেমন, সেটা বুঝতে পারবেন।’
জেন-জি প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কীভাবে কোচিং করান সালাহ উদ্দীনজেন-জি প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কীভাবে কোচিং করান সালাহ উদ্দীন
বাংলাদেশ সময় পরশু সকাল ১১টায় কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল। এই ম্যাচ না হলে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমানরা সরাসরি উঠে যাবে সেমিফাইনালে। কারণ, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৮ ও ২৫ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী নিশিনে পরশু বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। তাতে র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের সরাসরি সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়া যেমনই থাকুক, সালাহ উদ্দীনের চাওয়া বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচটা যেন মাঠে গড়ায়। সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘ম্যাচটা (বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল) হলে খুবই খুশি হব। কারণ, হঠাৎ করে পাঁচ-সাত দিন পর খেলতে নামলে সেটা খুব কঠিন হয়ে যায়। আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
‘মালয়েশিয়াকে হালকাভাবে নিলে ভুল করবে বাংলাদেশ’‘মালয়েশিয়াকে হালকাভাবে নিলে ভুল করবে বাংলাদেশ’
এ বছর বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ৮ ম্যাচ খেলে জিতেছে কেবল তিনটিতে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশ হেরেছে পাঁচ ম্যাচ। যেখানে টি-টোয়েন্টির নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মে মাসে টি-টোয়েন্টির পর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার সুযোগ পাননি। চোটে পড়ায় তাঁর পরিবর্তে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হৃদয়। সে যা-ই হোক, শিষ্যদের নিয়ে আশাবাদী সালাহ উদ্দীন। ব্যাটিং লাইনআপে লিটন-হৃদয়ের সঙ্গে থাকছেন তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, পারভেজ হোসেন ইমনরা। বোলিংয়ে রহস্যময়ী স্পিনার আলিস আল ইসলাম, বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের সঙ্গে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আছেন।
স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টও যথেষ্ট শক্তিশালী। শরীফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদের মতো পেসাররা আছেন এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে। সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসঙ্গে খেলছি। আমরা আসলে জানি, কার ভূমিকা কী। তারা যেখানেই খেলুক না কেন, দীর্ঘদিন ধরে একই পজিশনে খেলে আসছে। এখন কে জানে, কোন মুহূর্তে আমাকে কী করতে হবে। তাই আমি যখন আমার ভূমিকা জানি, তখন সেটি প্রয়োগ করা আমার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। আমার মতে সব খেলোয়াড়ই জানে কার ভূমিকা কী এবং কে কীভাবে খেলবে।’
পরশু মালয়েশিয়াকে হারালে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগামীকাল পাকিস্তান-হংকং ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় নিশিনে শুরু হবে পাকিস্তান-হংকং ম্যাচ।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :