স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট বিশ^ ইতিহাসের সুযোগের হাতছানি এবার বাংলাদেশের। ধবলধোলাই তো দূরের কথা, পাকিস্তানের মাটিতে টাইগাররা টেস্ট জিতবে দুই বছর আগে এমন কিছু ভাবাটাই কঠিন ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য। কিন্তু অভাবনীয় কিছুই হলো ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় তো এলই, বাংলাদেশ পাকিস্তানকে দুই টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাই করেই দেশে ফিরলো। দুই বছর পর আরেকটি আগস্ট। এবারও অভাবনীয় কাণ্ড বাংলাদেশের। এবার অস্ট্রেলিয়ায়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই জয়। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল, কারণটা শুধু সেটিই নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়ের পর বাংলাদেশ দল এখন ম্যাকাইয়ে।
আগামীকাল ভোরে সেখানেই শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ডারউইনের মতো ম্যাকাইয়েও যদি বাংলাদেশ জিতে যায়, তাহলে কী হবে? যা হবে সেটি গত ১৩৯ বছরে কেউ দেখেনি। গত ১৩৯ বছরে অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ধবলধোলাই হতে দেখেনি কেউ। সেই ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে এমন লজ্জার সঙ্গে প্রথম ও সর্বশেষ দেখা হয়ছিল অস্ট্রেলিয়ার। দুই ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজটা ইংল্যান্ড জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। দুটি টেস্টই হয়েছিল সিডনিতে। প্রথম টেস্টে ১৩ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৭১ রানে জেতে ইংলিশরা। ম্যাকাইয়েও বাংলাদেশ জিতে গেলে ১৩৯ বছরের পুরোনো ইতিহাস ফিরবে। আর ড্র করলেও সিরিজ জয় নিশ্চিত। বাংলাদেশ যদি সেটিও না পারে তবু এতটুকু কমবে না গৌরব। সিরিজ তো আর হারছে না বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিজ না হেরে দেশে ফেরাটাও তো কম গর্বের নয়। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহীমরা। এবার তাদের সামনে ইতিহাস সমৃদ্ধ করার হাতছানি। ম্যাকাইতে পরশু শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টটা নিয়েই এখন ভাবনা প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা সিমন্সও বুঝে গেছেন দেশের জনগণ ক্রিকেট নিয়ে কতটা আবেগী। ম্যাকাইতে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অনেক ইমোশনাল। কিন্তু আমি তো তেমন না। আমার জন্য তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। বাংলাদেশ সংবাদ
কিন্তু তাদের জন্য সেটা কঠিন। শিষ্যদের আত্মনিবেদন দেখে সিমন্স মুগ্ধ। ম্যাকাইতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ (গতকাল) ছেলেদের দেখে যা মনে হলো, তাদের কাজে মনোযোগ ফিরে এসেছে। আমরা দুই একদিন সময় পেয়েছি। সত্যি বলতে এখন তিন দিন হয়ে গেল। তাই ছেলেরা বেশ সুন্দরভাবে গুছিয়ে উঠেছে। আশা করছি, আগামীকালও (আজ) পরিস্থিতি আরেকটু ভালো হবে, তাতে শনিবার আমরা সঠিকভাবে শুরু করতে পারি।’ ২০০৩ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। দুটি টেস্টের কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। সেই দলে থাকা হাবিবুল বাশার সুমন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এবার এই বাংলাদেশ সম্মান আদায় করতে খেলতে নামছে। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়ের পর শান্ত এটাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা জয় আখ্যা দিয়েছেন। আর ভারতের ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়ার মতে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে বাংলাদেশ নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে। ২৩ বছর আমন্ত্রণ না জানানোর ফল অস্ট্রেলিয়া পেয়েছে হাতেনাতে। ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়ের পর বাংলাদেশ দলকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমেও চলছে শান্ত-হাসান মাহমুদদের বন্দনা। এমন ঐতিহাসিক জয়ই বাংলাদেশকে অনেক বেশি সম্মান এনে দিয়েছে বলে মনে করেন সিমন্স।
এনিয়ে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা আরও বেশি সম্মান অর্জন করেছি। আমার মনে হয় না যে আমাদের কোনো সম্মান ছিল না। আমি মনে করি আমাদের সম্মান আছে। হ্যাঁ, বিদেশের মাটিতে আমাদের এখনকার খেলার ধরন নিয়ে আমরা আরেকটু বেশি সম্মান পাচ্ছি।’ অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকাইতে আগামীকাল ভোরে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশের সফলতার হার হবে ৭২.২২ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তখন যৌথভাবে তিনে অবস্থান করবে নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের বাংলাদেশ। এই টেস্ট হারলে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চারে নেমে যাবে। অজিদের সফলতার হার হবে তখন ৭০ শতাংশ।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :