মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

গভর্নর হয়ে গরীবের সিএসআরের অর্থ হাতিয়েছেন মনসুর

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

গভর্নর হয়ে গরীবের সিএসআরের অর্থ হাতিয়েছেন মনসুর

অর্থনৈতিক ডেস্ক: বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের সফলতা না থাকলেও গভর্নর হয়ে গরীবের সিএসআরের অর্থ হাতিয়েছেন মনসুর।দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১২ জন গভর্নর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তাঁর দায়িত্বকাল মাত্র ১ বছর ৬ মাস ১৭ দিন।
স্বল্প সময় দায়িত্ব পালন করলেও নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আড়াই বছর আগেই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অতীতে সিএসআর তহবিল মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে এ তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে।
আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্বকালে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট বা পরিচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গায় গভর্নরের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত খলিল-মালিক ফাউন্ডেশনকে সিএসআর তহবিল থেকে ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের সহায়তার উদ্দেশে গঠিত প্রতিষ্ঠানটি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, দ্রুত অনুদান ছাড় করার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের উদ্বোধনে গভর্নর নিজে স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সিএসআর প্রকল্পে গভর্নরের সরাসরি সম্পৃক্ততা খুবই বিরল। ফলে এ ঘটনাটি নিয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভিতরে আলোচনা তৈরি হয়। 
টাঙ্গাইলের করটিয়ায় অবস্থিত মার্থা লিন্ডস্ট্রম নূরজাহান বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে সিএসআর তহবিল থেকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আহসান এইচ মনসুর নিজেই। একই সময়ে তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান থাকা অবস্থায় সেই প্রতিষ্ঠানে অনুদান অনুমোদন দেওয়া হলে তা সরাসরি স্বার্থের সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ওই বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে গভর্নরের মালিকানাধীন ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টার। এই রিসোর্টকে ঘিরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে রিসোর্টের একটি গেট অপসারণের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে।পরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হন আহসান এইচ মনসুর। এরপর বিদ্যালয়টিকে সিএসআর তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল সাধারণত বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হলেও সরকারি বিদ্যালয়ে অনুদান দেওয়ার নজির খুবই কম। এই প্রেক্ষাপটে নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়কে সিএসআর তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, এটি গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুদান অনুমোদনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে অন্য কোনো গভর্নরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিএসআর তহবিল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেনি। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিএসআর তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সূত্র :বিডি প্রতিদিন

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!