রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

প্রতিহিংসার পরিণতি কী হতে পারে ৫ আগস্ট দেখেছি-তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

প্রতিহিংসার পরিণতি কী হতে পারে ৫ আগস্ট দেখেছি-তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, হিংসা-প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি-তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা ৫ই আগস্ট তা দেখেছি। আমরা আর ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। গতকাল রাজধানীর শেরাটন হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পরের দিন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন। 
বিএনপি’র চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে; অবশ্যই আমরা ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার একপাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা; একইসঙ্গে আমার একপাশে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের একটি জানাজা; আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয়, এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতাকর্মী, সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দু’টি উদাহরণ বোধহয়, সবচাইতে বাছবিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে-আসলে ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, মতভেদ হলে, বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক হতাশার কথা আমরা শুনি। কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।
তারেক রহমান বলেন, এখানে একজন বক্তা বলে গেছেন, সামনে আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। আমাদের বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো নিয়ে যাতে আলাপ ও আলোচনা করতে পারি, আমাদের যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস-যেটা আমরা ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ থেকে শুরু করতে যাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এখানে এনটিভি’র জহিরুল হক সাহেব, অনেক আগে আমার একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সম্ভবত উনাকে আমি বলেছিলাম অথবা মতি ভাই (মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী) এখানে উপস্থিত আছেন। সম্ভবত উনার সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম- আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে। আমাদেরকে জবাবদিহিতা চালু রাখতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমার দেশে ফিরে আসার পরে আমি যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে, আমি সাভারে গিয়েছিলাম, আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা; সকল প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে আমরা যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয়-একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।
দেশে দেড় কোটির মতো কৃষক আছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এত বিশাল সংখ্যক মানুষ- যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করছেন, খাওয়ার-অন্নের সংস্থান করছেন- সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেয়া যায়। তাদের হয়তো সেভাবে বলার সুযোগ নেই, এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন- আপনারা আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে জানতে সহজ হয়, কারণ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে, যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো যাদের কোনো ভেন্যু নেই, যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না, তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো। কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। পরবর্তীতে আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে; এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে, এদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। একটু আগে আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটির কথা বলেছিলাম, সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি, এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।
কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলথ ইস্যু। বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষ। আমরা স্লোগান দিয়ে হয়তো বলতে পারি যে, সকলের জন্য স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করবো, আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সুবিধা দেবো’। যেকোনো ধরনের সেটি বাইপাস হোক, কার্ডিয়াক হোক, ক্যান্সার হোক- সবরকম চিকিৎসা ইউকে দেয়। এখন দেখা যাচ্ছে যে, এই কাজটা করতে গিয়ে ইউকের মতন দেশগুলো ইউরোপের যে ডেভেলপ দেশগুলো আছে তারা হিমশিম খাচ্ছে। তারা এখন যেটা করতে চাচ্ছে, সেটা হচ্ছে প্রিভেনশন। কিন্তু যদি প্রিভেনশন করা হয়, মানুষকে যদি সচেতন করা হয় যে, ‘এই এই খাবারগুলো খেও না, তাহলে তোমার কিডনি প্রবলেম হবে না’; ‘এই খাবারগুলো খেও না, তাহলে তোমার হার্ট প্রবলেম হবে না’; ‘এই খাবারগুলো খেও না, তাহলে তোমার ডায়বেটিক হবে না’- মানুষকে যদি এভাবে সচেতন করা যায়; তাহলে দেখা গেছে, তাতে রাষ্ট্রের খরচ অনেক কমে আসে, মানুষও সুস্থ থাকে। এটার উপর বেস করে যেহেতু ইউরোপেই এই কাজটা চলছে, এটার ওপর বেস করে আমরা হেলথ কেয়ারার অ্যাপয়েন্ট করতে চাই।
সাংবাদিকদের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই, যেটা আমাদের সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। 
শুধু সমালোচনা-সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই, যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে- সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই।
তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাবো। আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ্ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন- আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে- ফ্যামিলি কার্ড। যেমন, ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা, একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিণী বা একজন হাউজওয়াইফ এটা পাবেন। কার্ডটি সারা জীবনের জন্য নয়, ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেবো, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করবো। সবাই এক কার্ড পাবেন। 
বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, কাউকে আঘাত না করিয়ে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আমি আঘাত করতে চাইছি, আমি আমার চিন্তাটা শুধু উনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, দেশের নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থান পরিবেশ, সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি একটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আমরা অনেকদিন ধরে রিফর্মর বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে- মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে।
তিনি বলেন, আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সকল সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়াগুলো, প্রয়োজনগুলো সেটা নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি, আলোচনা করছি, তর্ক-বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দ্য সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না, এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত ।
তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি, কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সঙ্গে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়ে, উনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি,  উনার সঙ্গে উনার রক্ত মাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই উনার সঙ্গে কী হয়েছে, আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সঙ্গে কী হয়েছে, যেভাবে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন জেলের মধ্যে সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- আমার ৬০ লাখ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয়বিদারক আমার জন্য সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাকে চিকিৎসার জন্য এ দেশ থেকে ২০০৮ সালে চলে যেতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। ২০০৮ সালে যাওয়ার পরে ২০১০ সালে সেখানে প্রথম একটি নির্বাচন আমি দেখেছিলাম। যেহেতু সেটি নির্বাচন ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার একটি ইন্টারেস্ট ছিল, টিভি’র সামনে বসে আমি ডিবেট দেখছিলাম। সেখানে দু’টি মেইন দলের নেতার মধ্যে লেবার এবং কনজারভেটিভ দলের মধ্যে এই ডিবেট। অনেকদিন ধরে লেবার ছিল, ২০১০ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ আসে তো দুই দলের দুই নেতার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছিল। খুব দুঃখজনক হলো- বাংলাদেশ বাদই দিলাম শুধু ঢাকা শহরের মধ্যেই কোনো এম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। গত ৫৪/৫৫ বছরে আমরা মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য এম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি, এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এই এম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে ওই দুই নেতার মধ্যে তখন কথা হচ্ছিল। যতটুকু আমার মনে আছে তখন  ইমার্জেন্সির জন্য এম্বুলেন্স সার্ভিস কল করলে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগতো এম্বুলেন্স আসতে।  একজন বলছে ২০ মিনিট লাগে, এটাকে আমরা ১৯ মিনিটে নিয়ে আসবো। আরেকজন বলছিল ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৫ মিনিটে নিয়ে আসবো। অর্থাৎ একজন এক মিনিট কমাচ্ছে একজন ৫ মিনিট কমাচ্ছে। এই কাজটি তারা তাদের জনগণের জন্যই করতে চাইছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, পানির সমস্যা, এখন যেভাবে চলছে এভাবে যদি চলে আমার যতটুক ধারণা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর হার্ডলি ২০ বছর পরে ঢাকা শহরে কোনো জায়গা থেকে পানি আমরা পাব না। আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী সম্পূর্ণরকম পলিউটেড, ১০০% পলিউটেড। শীতলক্ষ্যা নদী ৫০% এর মত পলিউটেড। এখন মেঘনা নদী থেকে পানি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, কয়েকটা প্রজেক্ট কাজ হচ্ছে। কিন্তু এটার পানিও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পলিউটেড হয়ে যাবে। ঢাকা শহরে যে সাড়ে তিন কোটি মানুষের মতন মানুষ বাস করছে, এরা পানি পাবে না। পানির অপর নাম জীবন। সারা দেশে যদি এই সমস্যা শুরু হয় তাহলে বিষয়টি কত ভয়াবহ হতে পারে আমার মনে হয় এইরকম বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা হওয়া উচিত। 
তারেক রহমান বলেন, করাপশনটাকে যাতে একটা স্প্রেড না করে, করাপশনটা যাতে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে।  কিছু তো এনোমেলিজ হতে পারে, সেটি আমরা গ্রাজুয়ালি ঠিক করব। তিনি বলেন, আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে যে, আমাদের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে। আমরা যদি সৌদি আরব বা কুয়েতের সবগুলো তেল খনিও এখানে নিয়ে আসি তাহলে হয়তো আমরা এই এত রিসোর্স দিয়ে আমরা এত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই পপুলেশন কন্ট্রোলে যেতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে এবং সেজন্য এই হেলথ কেয়ার যে নিয়োগ হবে, এই হেলথ কেয়ারের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ, ১ লক্ষের মত আমাদের টার্গেট নিয়োগ করা। এই হেলথ কেয়ারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মীকে নিয়োগ করতে চাই, যাতে নারী কর্মীরা গিয়ে ঘরে ঘরে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কী জন্য প্রয়োজন হাইজিন মেইনটেইন করা এবং পরিবারকে সুস্থ রাখা, একই সঙ্গে পরিবারকে একটি একটি রিজনেবল সাইজের মধ্যে রাখা পরিবারের সদস্য সংখ্যা।
অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই এবং সুশাসন চাই। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং আপনাকেও (বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান) নিশ্চয় অনেকে বলেছেন। কিন্তু একটি দু’টি বিষয়ে মনে হয় যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্য থেকে যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের মতোই কিন্তু ভুল হবে। সেই ভুল থেকে আমরা আবার এমন একটা অবস্থায় চলে যাবো-যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে যেভাবে পড়ে যাচ্ছে, সেই সংকট থেকে যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে সেই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম। ২৩ বছর আগে আমি ইলেক্ট্রনিকস সাংবাদিকতার প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তারেক রহমানের। সেদিন চ্যানেল আইতে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়েছিল। আমি এখন দেখি ২৩ বছর বাদে তারেক রহমান বদলে গেছেন। আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে। অনেকে এটা বিশ্বাস করেন না। আমি কাছে থেকে জানি, দেখি এবং শুনেছি। তিনি বলেন, আমরা লিখতে চাই। আমরা বলতে চাই। মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন। অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত।
মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটাই সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেয়া হয় তখন কিন্তু ভাবতে কষ্ট লাগে-আমরা জাহান্নামে আছি, না বেহেশতে আছি! 
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলি আমরা। কিন্তু আমরা এখানে ওই দলবাজির চিন্তা করি। দলের মধ্যে দিয়ে চিন্তা করি। এটা কি আমাদের কাগজ না অন্যদের কাগজ! নাকি আমাদের বিরোধী! 
তারেক রহমান সাহেব বদলে গেছেন বলছি এই কারণে যে, তিনি দেখে এসেছেন পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কীভাবে মিডিয়া চলে। তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন আছে।   
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আমরা যদি ভবিষ্যতে সমাজ এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই-অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিশ্বাস করে মানুষ গণতান্ত্রিক রূপান্তর চান তাহলে একইসঙ্গে সেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা করার জন্য গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল কবীর বলেন, আমরা আজকে এমন একটা সময়ে এখান সবাই সমবেত হয়েছি। যখন একটা পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বড় ধরনের শিক্ষার্থীদের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটেছে। কিন্তু এটার পরিবর্তে, যেজন্য মানুষের এত আত্মদান। সেই আত্মদানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা। কিন্তু সেটা এখনো গড়ে উঠেনি।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রয়াত সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর কথা তুলে ধরে বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় ভুয়া মামলায় তাকে কারাগারে রেখে চিকিৎসা ছাড়া মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সে সময় মূলধারার গণমাধ্যম নীরব ছিল। প্রবীণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেয়, বছরের পর বছর কারাবরণ করতে হয়, অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুর সময়ও তিনি পাশে থাকতে পারেননি- তবুও গণমাধ্যম থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
অনুষ্ঠানে যায়যায় দিনের শফিক রেহমান, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের সম্পাদক আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর সম্পাদক ইনাম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাবর, বণিক বার্তার সম্পাদক হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, সুরমা’র (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
অনুষ্ঠানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবি’র প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বিবিসি’র সম্পাদক সাব্বির মোস্তফা, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপি’র শেখ সাবিহা আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান, সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভি’র ফখরুল আলম কাঞ্চন, ইটিভি’র আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএন বাংলার হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এমএ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন-এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ,ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার,শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপি’র সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!