সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

অপকর্মের পরিণতি আগের সরকারের চেয়ে ভয়ঙ্কর হবে, বিএনপিকে জামায়াত আমির

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

অপকর্মের পরিণতি আগের সরকারের চেয়ে ভয়ঙ্কর হবে, বিএনপিকে জামায়াত আমির

ডেইলি খবর প্রতিবেদক: দেশে গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারে আহ্বান জানিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিরোধীদলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই আচরণ দেখাবেন না। জুলাইযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম, যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করে না। মনে রাখবেন, অপকর্ম করলে আগের সরকারের চেয়ে পরের সরকারের পরিণতি ভয়ঙ্কর হয়।’
আজ সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। 
সংসদে ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেছেন, একজনের বদলে এখন আরেকজনের প্রশংসায় এক তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় হবে এটা শুনতেও চাই না, দেখতেও চাই না। প্রশংসা হবে জনগণের, সংসদের ভেতরে কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে। 
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ঘটনায় সরকারের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সবকিছু কুক্ষিগত করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে। অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে জামায়াত বসে বসে আঙুল চুষবে না।বেসরকারি খাতে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক এক সময় ছিল জামায়াত নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। বিপুল ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে ৫ আগস্টের বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী গ্রুপের কবল থেকে ব্যাংকটিকে মুক্ত করা হয়। 
জামায়াত আমির বলেছেন, ব্যাংকটিকে আবার কুক্ষিগত করার চেষ্টা হচ্ছে। যে ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ আহরণ করে, তাদের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে। ব্যাংকটিকে দলীয়করণ করবেন না।
গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তিলে তিলে সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, এমপি সবাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফসল। জুলাই আছে বলে সরকার আছে। জুলাই নেই, কিছুই নেই। জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায় অনুযায়ী জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে।
মন্ত্রীদের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, বুঝি ঘুড়ির নাটাই কোথায়। ওখান থেকেই নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। এ জন্যই অস্থিরতা। এক সময় গণভোট হারাম, আরেক অর্ধেক হালাল। 
অধিকারের পক্ষে লড়াইয়ে যত দিন সংসদে থাকা প্রয়োজন, বিরোধী দল তত দিন থাকবে- জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, যখন বিরোধী দলের আর কিছু করার থাকবে না, তখন সংসদ থেকে চলে যাবে। তবে এর আগে সংসদে কারও জমিদারি মানা হবে না। কারও পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে চলবে না। 
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। কি-নোট উপস্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির। বক্তৃতা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সংগৃহীত ছবি
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!