ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার রাজনৈতিক জীবন খুবই অল্পদিনের। তিনি কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তাকে নিয়ে রয়েছে নানামুখী বিতর্ক।
আন্দোলনের মাঠ পেরিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, গণমাধ্যমকে হুমকি, এবং দুর্নীতির নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অতি সম্প্রতি তাঁর দ্বিমুখী নীতি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের খতিয়ান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সাধারণ পরিবার থেকে আসা হাসনাত একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে থাকতেন। সেই সুবাদে তিনি ছাত্রলীগ করতেন বলে জানা যায়।
আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলছেন তার সহযোদ্ধাদের একাংশ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার থাকলেও হাসনাতের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কর্মীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় হাসনাতের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। এছাড়া, তাঁর বিলাসী জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিককে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যার জেরে পরবর্তীতে ওই সংবাদটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাসনাতের বিরুদ্ধে স্ববিরোধিতার অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগকে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় তাঁর আকস্মিক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় হাসনাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দেবিদ্বারে একটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, বন্যা দুর্গতদের জন্য সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার ত্রাণের অস্বচ্ছ হিসাব এবং সোলার লাইট স্থাপন না করেই সরকারি তহবিল খরচের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে হাসনাতের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বলয়ে এসে সমালোচকদের `আওয়ামী দোসর` কিংবা `ভারতের দালাল` তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মব সংস্কৃতির চর্চা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :