বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনী জোট ভোটে যাওয়ার আগেই ভাঙনের মুখে ১১ দলীয় জোট

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৮:১৭ এএম

নির্বাচনী জোট ভোটে যাওয়ার আগেই ভাঙনের মুখে ১১ দলীয় জোট

ডেইলি খবর ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এসে ভাঙনের মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতা হয়নি।ইসলামী আন্দোলনের দাবি, তাদের অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই তাদের ওপর অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ১১ দলের জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। আরেক প্রভাবশালী শরিক দল আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার ফলাফল নিয়ে ক্ষুব্ধ। 
এ অবস্থায় আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ইসলামি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য শেষ পর্যন্ত রূপ নিতে যাচ্ছে অনৈক্যে। তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা তাদের জোটের ঐক্য টিকে থাকবে বলে এখনো আশাবাদী।
আসন নিয়ে দরকষাকষি চলা অবস্থায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা থাকবেন বলে জানানো হয়।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়। মূলত আসন সমঝোতার বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় এটি স্থগিত করা হয়। 
অন্যদিকে দলীয় কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেশ কিছু বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। ইসলামপন্থার ‘একবক্স ভোটের’ নীতি বহাল রাখতে আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে চরমোনাই পীর ইসলামপন্থিদের একবক্স নীতির ঘোষণা করেন। সেই নীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো অটল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পারস্পরিক আলোচনা চলমান। ইনশাআল্লাহ দ্রæতই একবক্স নীতির রূপরেখা ও ধরন পরিষ্কার হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রশ্নে টানাপোড়েন সম্পর্কে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা সম্পর্কে তিনি বলেন, অনিবার্য কারণে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এখনো কিছু প্রস্তুতি বাকি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের তারিখ জানানো হবে।
জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা-অন্তত ১২০টি আসনে তারা তাদের দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করবেন। কিন্তু জামায়াত তাদের ৪২টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। একইভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ২৭টি আসনে ছাড় চায়। তা না হলে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা তাদের দলীয় প্রতীক রিকশা নিয়ে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর কথা জানিয়েছেন। জামায়াত এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০টি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানায়। এর বাইরে খেলাফত মজলিস,বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে কোনো আসন ছাড়তে রাজি হয়নি জামায়াত। ফলে এই তিন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা জানায়। সূত্র বলছে, সমঝোতা না হলে শেষ পর্যন্ত জামায়াত ছাড়া অন্যান্য ইসলামি দল মিলে একটি পৃথক নির্বাচনি জোট হতে পারে। আসন সমঝোতার বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে জামায়াতের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে তাদের। এ খবর পাওয়ার পর জামায়াতকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে যে কটিতে ছাড় দেওয়া হবে না, সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের প্রার্থী উন্মুক্ত রাখবে। একই চাওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরও। ঢাকা-১১ আসনসহ আরও বেশ কিছু আসনে ছাড় দিতে নারাজ দলটি। ঢাকা-১১ আসনে জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ছাড় দিয়েছে জামায়াত। তবে এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসুদও নির্বাচন করতে চান। এর আগে দুই দফায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন তিনি। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে নাহিদ ইসলামকে ছাড় দিতে রাজি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে এক্ষেত্রে তারা আরও কয়েকটি আসনের দাবিতে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এসব কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েছে ১১ দলীয় জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী। 
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী আন্দোলন প্রথম ‘ওয়ান বক্স’ পলিসি নিয়ে কাজ শুরু করে, যেখানে সমঝোতাকারী দলগুলো একটি আসনে একজন করে একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে এই আলোচনায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস,খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। পরে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় জামায়াতে ইসলামী। এরপর জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) সমঝোতার আলোচনায় যুক্ত হয়। এই আট দল মিলে পিআর, জুলাই সনদসহ আরও বেশকিছু দাবিতে আন্দোলনে নামে। পর্যায়ক্রমে তা নির্বাচনি জোটে গড়ায়। এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এই তিনটি দল যুক্ত হয় এই প্রক্রিয়ায়। 
সংশ্লিষ্ট সুত্রেজানা গেছে,এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে জোটভুক্ত করা ভালোভাবে মেনে নেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, ১১ দল ভেঙে গেলে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে থাকা এই দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে। সে অনুযায়ী আলাপ-আলোচনা এবং প্রস্তুতিও চলছে। 
দীর্ঘদিন ধরে বিপরীত মেরুতে থাকা জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের একসঙ্গে আন্দোলন এবং পরে নির্বাচনি জোট গঠন রাজনীতির মাঠে নতুন বার্তা দেয়। তবে জামায়াতের এককভাবে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনসহ শরিক কয়েকটি দল ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টিকে (এবি পার্টি) জোটে এনে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে জামায়াত আলাদা করে তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব বৈঠকের আগে অন্য দলগুলোকে জামায়াতের তরফ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। 
এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে কথা বলেন। এ বিষয়টিকেও ইসলামী আন্দোলনসহ সমমনা কয়েকটি দল দ্বিমুখী আচরণ হিসাবে দেখছেন। এরপর আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষ প্রকাশ পায়। দলটি শুরু থেকে ১২০ আসনে নির্বাচন করতে চায়। তবে আলোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে তারা আসনের চাহিদা কমিয়েছে। সর্বশেষ তাদের দাবি ছিল ৫৭টি আসন। কিন্তু জামায়াত দলটিকে সর্বোচ্চ ৪২টি আসন ছাড় দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতাই এটি মানতে নারাজ। আসন সমঝোতা প্রশ্নে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও অনেকটা ক্ষুব্ধ। 
ইসলামী আন্দোলনের প্রেসডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। আসন সমঝোতাসহ বেশকিছু বিষয়ে শরিক দলের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় জানাব। 
এ প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। যদি ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যায়,তাহলে আমাদেরও জোটে থাকার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। 
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে জামায়াতের একাধিক নেতা বলেন, জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসন কীভাবে ১১ দলের মধ্যে সম্ভাবনার আলোকে সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টন হবে তা নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিনে মোটামুটি একটি সমঝোতা হয়। জামায়াত ১১০টি আসনে ছাড় দেয়। ওই সমঝোতা অনুসারে ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫টি এবং এনসিপিকে ৩০ আসন দেওয়া হয়। বাকি ৪৫টি আসন অন্য দলগুলোর মধ্যে যার যে আসনে অবস্থা ভালো তার ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকলেও সব দল এই আসন বিন্যাস মেনে নেয়। তবে এতে শুধু আপত্তি জানায় ইসলামী আন্দোলন। সূত্র জানায়, যে ৩৫টি আসন ইসলামী আন্দোলনকে দেওয়ার কথা ছিল সেখান থেকেও বাড়িয়ে জামায়াত তাদের ৪২টি আসন দিতে রাজি হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নয় দলটি।
নতুন জোটের ইঙ্গিত ইসলামী আন্দোলনের : জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা যখন জটিলতায়, তখন নতুন জোটের ইঙ্গিত দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ২০ তারিখ (২০ জানুয়ারি) হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রæয়ারির ১২ তারিখ। তাই না? ফেব্রæয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।
বুধবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন চরমোনাই পীরের দলটির মুখপাত্র। তিনি বলেন, তাদের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। 
জোটের আসন ভাগাভাগির টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল,মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত সেটি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ তাদের মজলিসে আমেলার (দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়েছিল। যাদের নিয়ে শুরু থেকে পথচলা, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যোগাযোগ করছে। ‘ওয়ান বক্স’ পলিসির আওতায় আগামীর পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করার জন্য আলোচনা করবেন। এ আলোচনা নির্বাচনের পরও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন, খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন। তবে সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে?
গাজী আতাউর রহমান বলেন আমরা ইসলামি দলগুলোর একবক্স নীতিতে আছি এবং থাকব। জামায়াত থাকবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে আগাব। এটা তো একটা সমঝোতার বিষয় ছিল। এখানে কেউ কারও ওপর ডমিনেট করবে না, কেউ কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করবে না। সেই পরিবেশটা যদি থাকত আসন কমবেশি কোনো বড় বিষয় হতো না। আমরা তো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করি, কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন অতীতেও কখনো মানেনি। আমরা আমাদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে আছি। কেউ যদি আমাদের প্রতি ইনজাস্টিজ করে বা অবহেলা করে তাহলে আমরা তো সেটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারি না। আত্মসম্মানবোধ তো সবারই আছে। তাছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের সামনে আছে। কার কী অবস্থান তাও সবাই জানে।
জামায়াতের জোটে বিভাজন বিএনপিকে সুবিধা করে দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। এটার দায় কি আমাদের? এখানে যদি কেউ অ্যাডভান্টেজ পায়, সেটা পেতে পারে। নতুন করে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি তো ফিক্সড করে ফেলেছে, তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন, সেটা তো হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না-জানতে চাইলে গাজী আতাউর বলেন, এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। আলোচনার পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবেন তারা। 
সমঝোতার সুযোগও রাখছে : জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে গেছে, এমন পরিস্থিতিও এখনো তৈরি হয়নি বলে জানান ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, নির্বাচনি আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নানা প্রতিকূলতা থাকলেও ন্যূনতম সমঝোতা যাতে থাকে, ইসলামী আন্দোলন সেই চেষ্টা করে যাবে। বিভিন্ন জনমত জরিপের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে দাবি করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, অনেকে সমীক্ষাকে মানদন্ড ধরেন। এসব জরিপ কারা করছে, মানুষ সেটি বোঝে। এগুলো বেইনসাফি করার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় হবে। এর আগে দলের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ। 
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের আমির সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে কাউকে অনুরোধ করেননি বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একবক্স নীতিতে অটল-অবিচল থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ও সমঝোতায় আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজকে এক বিবৃতিতে বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন। তবে আজকের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির কাউকে কোনো অনুরোধ করেননি।ফাইল ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!