বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

রাজধানীর ভবনগুলোতে বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়লেও রাজউক নিস্ক্রিয়!

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৪, ১০:২১ এএম

রাজধানীর ভবনগুলোতে বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়লেও রাজউক নিস্ক্রিয়!

রাজধানীর ভবনগুলোতে বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়লেও রাজউক নিস্ক্রিয়! রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত নির্মাণ বিধিমালাতেই নানা অসঙ্গতি নিয়ে চলছে যুগের পর যুগ ধরে। বছরের পর বছর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মিশ্র ব্যবহার হওয়া ভবনের ব্যাপারে নিস্ক্রিয় সংস্থাটি। রাজধানীজুড়ে মানহীন কাচের ভবন ও অপরিকল্পিত এসির ব্যবহার চোখে পড়লেও এ বিষয়ে নেই নিয়মের কোনও বেড়াজাল। তবে চলতি বছর বিধিমালা সংশোধন করে এসব অনিয়মে লাগাম টানার আশ্বাস দিলেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত তদারকি করা না হলে বিধিমালা সংশোধন কোনো কাজেই আসবে না! রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই ভবনে ক্লিনিক, বিপণি বিতান, রেস্কোরা আর নানারকম বিপদজ্জনক মালামাল রাখার গোডাউন। রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ফাঁক-ফোকরের সুযোগ নিয়ে রাজধানীজুড়ে দেদারসে দাঁড়িয়ে আছে এমন অসংখ্য ভবন।
রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০২৩-এ ভবনের ব্যবহার ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস করা হলেও নেই মিশ্র ব্যবহারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা। বাণিজ্যিক ও বিপজ্জনক ব্যবহার করা ভবনকে পৃথক করা হলেও এতে হোটেল ও রেস্তোরাঁর কথা উল্লেখ নেই। বছরের পর বছর এভাবে চললেও মাথা ঘামায়নি সরকারি সংস্থাটি। এরই সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ঘটছে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের মতো ট্র্যাজেডি।
রাজধানীর এক বাসিন্দা বলেন, রাজউক চাইলেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে সংস্থাটির ওপর অনেকেই খবরদারি করে। মিশ্র ব্যবহারের পাশাপাশি মানহীন কাচের ভবন ও অপরিকল্পিত এসির ব্যবহারেও কোনো নির্দেশনা নেই বর্তমান বিধিমালায়। তবে চলতি বছরেই তা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছে রাজউক।
সংস্থাটির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্থাপত্য নকশার পাশাপাশি কাঠামো নকশা, ফায়ার সেফটির নকশা, প্ল্যাম্বিং নকশাসহ সব নকশাই অনুমোদন দেবে রাজউক। যে ভবনগুলো কোনো নকশার অনুমোদন না নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো সরাসরি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনপত্রের পাশাপাশি প্রতি পাঁচ বছর পরপর ব্যবহার সনদপত্র নবায়নের প্রতি জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে রাজউকের। কারণ বর্তমান বিধিমালায় এর উল্লেখ থাকলেও নেই বাস্তবায়নের নীতিমালা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, রাজউক যতই নতুন নিয়ম করুক, তাতে কিছুই যায়-আসে না, যতক্ষণ অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ঠিকভাবে ইস্যু করা না হবে। এক্ষেত্রে রাজউক একেবারেই ব্যর্থ। তবে ব্যবহার সনদপত্র দ্রæততম সময়ে করতে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগের কথা জানিয়েছে রাজউক।
রাজধানীতে ২০ লাখেরও বেশি নির্মাণ করা ভবন পরীক্ষায় দরকার প্রকৌশলীদের তত্বাবধান। এতে ঠিক কত বছর সময় লাগবে রয়ে যায় সে প্রশ্ন। হয়তো তার আগেই অনিয়মের দৌরাত্ম্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে আরও অসংখ্য ভবন। তবে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মন্তব্য, স্বার্থান্বেষী মহল জিইয়ে রাখবে মর্জিমাফিক ভবন নির্মাণের ধারা। রাজধানী ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য করতে ভবনের নকশার অনুমোদন দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এখানে ভবন তৈরি করতে সরকারি বিধিনিষেধ ও ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮’ মেনে চলতে হয়। সম্প্রতি এ বিধিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এনে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফ্লোর এরিয়া রেশিও(ফার) পুনর্বিন্যাসে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এতে বিল্ডিংয়ের উচ্চতা কমবে এবং ভবন পরিবেশবান্ধব হবে। কিন্তু বাদ সেধেছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এটি চূড়ান্ত হলে ধস নামবে আবাসন ব্যবসায়। বেড়ে যাবে ফ্ল্যাটের দাম। 
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে নির্মিত বহুভবনের নকশায় ত্রæুটি রয়েছে। বভন নির্মান করার আগে নকশা আপডেট করার কথা রাজউক থেকে চিঠিতে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্বেও তা না করে যথারিতি ভবন নির্মাণ করেছে। ভবনের ডেভিশনও থাকছে।অভিযোগ আছে এসব ভবনের তদারকির দায়িত্বে রাজউক থেকে যারা আছেন তারা অদৃশ্য হাতের ইশারায় অদৃশ্যই থাকেন।
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!