শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্লেষণ:ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে বড় পরীক্ষা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

বিশ্লেষণ:ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে বড় পরীক্ষা

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উচ্চমূল্যস্ফীতিতে ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন পেয়ে ভূমিধস জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। কিন্তু নির্বাচনী সাফল্যের পর এবার তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সাধারণ মানুষের সংসারের খরচ কমানো। কারণ যে উচ্চমূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়েছে, সেই একই সমস্যার মুখোমুখি এখন ডেমোক্রেটরা। আমেরিকানরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে চান। কিন্তু দ্রুত তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা নীতিনির্ধারকদের হাতে খুব বেশি নেই।

কেন গুরুত্বপূর্ণ-সুস্থ অর্থনীতিতে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমতে পারে। কিন্তু কয়েক বছরের মূল্যবৃদ্ধি পুষিয়ে দিতে সামগ্রিকভাবে পণ্যের দাম আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেয়া কঠিন। এ ধরনের ব্যাপক মূল্যপতন ঘটলে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে, মানুষের আয়ও হ্রাস পেতে পারে। ফলে যে স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা, শেষ পর্যন্ত তাতে পরিবারগুলো আগের চেয়েও খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে।
এ কারণে নতুন ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস এবং দেশজুড়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় দলটির প্রতিনিধিদের জন্য এটি হবে প্রথম বড় পরীক্ষা। ভোটারদের পারিবারিক বাজেটে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেএমন পদক্ষেপ নিতে হবে তাদের।সংবাদ দেখুন

কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা-সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের (বাজেট ও নীতি অগ্রাধিকারবিষয়ক গবেষণা সংস্থা) ফেডারেল বাজেট নীতির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ব্রেন্ডান ডিউক অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘দাম ২০১৯ সালের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? না। তবে মূল্যবৃদ্ধির অনেক ধাক্কাই নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এসেছে। তাই নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেগুলোর কিছুটা উল্টে দেয়া সম্ভব।’
ডিউকের মতে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানো—এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর সঙ্গে বড় একটি শর্ত রয়েছে: প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এসব পদক্ষেপে সম্মতি দেবেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা কিংবা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সম্ভাব্য বিনিয়োগ-বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক সমস্যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটকে আড়াল করে দিতে পারে, কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হবে না।

ডেমোক্রেটদের ক্ষমতা সীমিত-পারিবারিক ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কারণ মোকাবিলায় ডেমোক্রেটদের ক্ষমতা সীমিত। মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির বড় জয়ের পর বাজারে প্রত্যাশার প্রভাবে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে। ফলে জ্বালানির দামে আরও স্বস্তি আসবে কিনা, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে তার সিদ্ধান্তের ওপর।সংবাদ দেখুন

কংগ্রেস চাইলে শুল্ক প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দিতে পারে। এতে আমদানি করা পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় কমতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প ওই আইন ভেটো দিতে পারেন। তা ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমার পুরো সুবিধা ভোক্তাদের দেবে এমন নিশ্চয়তাও নেই।

স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন) মেয়াদোত্তীর্ণ ভর্তুকি পুনর্বহাল কিংবা মেডিকেইডে কাটছাঁট প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়তে পারে। ডেমোক্রেটদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কিংবা ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এসব উদ্যোগ আটকে দিতে পারে।সরকারি আদেশ দেখুন

সিনেট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেট প্রার্থীদের অনেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও বলেছেন।টেক্সাসে জয়ী জেমস তালারিকো শুল্ক প্রত্যাহার এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপার অঙ্গীকার করেছেন, তিনি ‘সবকিছুর দাম কমাতে’ কাজ করবেন। আর সাউথ ক্যারোলাইনায় নবনির্বাচিত অ্যানি অ্যান্ড্রুজ ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের জয় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির পথও খুলে দিতে পারে। এর মধ্যে ভোটারদের সরাসরি অর্থ দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, টেক্সাসের নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোজোসা ১ হাজার ৫০০ ডলারের রিবেট বা অর্থ ফেরত দেয়ার চেক প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন।সংবাদ দেখুন

সমালোচকদের আশঙ্কা-তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বুধবার এক্সে দেয়া পোস্টে ধনকুবের বিনিয়োগকারী এবং বন্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ডাবললাইন ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী জেফ গান্ডলাখ লিখেছেন, ‘নতুন ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য “সাশ্রয়ী জীবনযাপন” যেন ভোটারদের দেয়া মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত দাম কমানোর জন্য তাদের হয়তো কোনো জাদুর কাঠি খুঁজে বের করতে হবে, নয়তো আবারও মানুষকে অর্থ দিতে হবে, যাতে উচ্চমূল্যকে “সাশ্রয়ী” করা যায়। কিন্তু এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।’

কোন দিকে নজর থাকবে-আমেরিকানদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য পণ্যের দাম আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা জরুরি নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুতগতিতে মজুরি বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরে আসতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়া ধীর এবং রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি আকর্ষণীয় নয়। এর পাশাপাশি নতুন করে মূল্যস্ফীতির ধাক্কা না আসার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত এক দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, এমন নিশ্চয়তা দেয়া কঠিন।

বাস্তবতা কী-কংগ্রেসে বড় সাফল্য পেলেও ডেমোক্রেটরা নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাদের হাতে প্রেসিডেন্টের ভেটো ঠেকানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতাও থাকবে না। সাধারণত অর্থনীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষের দায় কংগ্রেসের চেয়ে প্রেসিডেন্টকেই বেশি নিতে হয়।

তবু ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে ফেরার এবং কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্য সামনে রেখে ডেমোক্রেটদের জন্য এখনই মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!