রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা?

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা?

ডেইলি খবর  ডেস্ক: ইরান-ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা দুটি সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

১. ওয়াশিংটনের ‘দূতাবাস অবরোধ’ মনস্তত্ত্ব (১৯৭৯)

১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মিদশার ঘটনা থেকে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে একটি ধারণার জন্ম হয়- ইরান কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম মানে না এবং তাদের কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো- ইরানকে আগে শর্ত বা দাবি মেনে নিতে হবে এবং তা নিশ্চিত করার পরেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুবিধা দেবে।

২. তেহরানের ‘চুক্তি বাতিল’ মনস্তত্ত্ব (২০১৮)

অন্যদিকে, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সবুজ সংকেত সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে একতরফাভাবে বের হয়ে যান। এরপর ২০২৫ সালে মাসকাটে আলোচনার মধ্যেই পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা ও বর্তমান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইরানের মনে এ ধারণাকে বদ্ধমূল করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষর বা প্রতিশ্রুতির কোনো স্থায়িত্ব নেই। তাই ইরানের নীতি হলো- যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাইন্ডিং বা বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, তবেই ইরান কোনো ছাড় দেবে।

ইসলামাবাদ সমঝোতা ও সাম্প্রতিক অচলাবস্থা

চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত ১৮ জুন ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে একটি স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় ইরান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর ফলে সমঝোতাটি পুরোপুরি ভেস্তে যায়।

সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোতেও এই দ্বিমুখী মনস্তাত্ত্বিক বাধা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি- ইরানকে আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী- যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, তবেই ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত আট বছরের তুলনায় দুই দেশের মূল দাবিগুলোর মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ঐতিহাসিক অবিশ্বাস ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে কোনো পক্ষই আগে পদক্ষেপ নিতে রাজি হচ্ছে না।

তৃতীয় কোনো শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী পক্ষ উভয় দেশের দাবির সমান্তরাল গ্যারান্টি না দিলে এই মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!