ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে চলছে দোষারোপের রাজনীতি। নির্বাচনে বিপর্যয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সসহ দলটির সদস্যরা।
এই অজনপ্রিয় যুদ্ধের জন্য রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি আগামী সপ্তাহেই তাঁকে অভিশংসন করার পক্ষে ভোট দিতে পারে প্রতিনিধি পরিষদ।
এদিকে সিএনএন গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে অন্তত ২৪৫টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। সিনেটের দুটি আসন মিসিসিপি ও আলাস্কার ফলাফল এখনো ঘোষণা করা বাকি রয়েছে।
এর মধ্যে মিসিসিপি আসনের লড়াইকে সিএনএন নিরপেক্ষ বা সমানে সমান হিসেবে দেখছে এবং আলাস্কা আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে মিসিসিপি ও আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনের ফল জানতে কয়েক দিন লাগবে বলে বিবিসি জানিয়েছে। মিসিসিপি ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শেখ টেলর বিবিসিকে বলেছেন, ‘সোমবারের আগে এই নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে না।’ ওই আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কোলম এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের মধ্যকার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী কে হবেন, তা জানতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে।
মিসিসিপিতে ভোটের ব্যবধান অল্প হওয়ার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনার ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে প্রার্থীদেরও পুনর্গণনার অনুরোধ করার সুযোগ দেওয়া হয় না।
এ ছাড়া সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইগুলোর একটি আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল জানতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সেখানে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান এস সুলিভান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার বিপক্ষে। ড্যানিয়েল জে সুলিভান নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীও ওই আসনে লড়ছেন।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মধ্যমে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রস্তুতি শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা এখন নিয়ন্ত্রণহীন নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসবে। ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সংরক্ষণের নির্দেশ জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কংগ্রেসের তীব্র তদারকির মুখে পড়তে যাচ্ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্টে পরিণত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি আবারও অভিশংসিত হবেন? বিদ্যমান ব্যবস্থায় তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা কতটা কঠিন? ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে কথা বলার সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ডেমোক্র্যাটরা আবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি কি পুনরায় অভিশংসিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘একটুও না।’
তিনি বলেন, অভিশংসন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ‘ধ্বংস’ করে দেবে এবং সেটি হবে ‘কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসন’। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ এখন তার ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো সফল।’ প্রসঙ্গত, ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ দুইবার অভিশংসিত করেছিল, কিন্তু দুইবারই সিনেট তাঁকে রেহাই দেয়। ফাইল ছবি,সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :