শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘ব্লু ওয়েভ’, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে?

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘ব্লু ওয়েভ’, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল ঢেউ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। দেশটিতে দুই দলের অনেক বিষয়েই বিরোধ থাকলেও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে কিছু অভিন্ন অবস্থানও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে অল সাইডস।

‘রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর’ ইস্যু
বামঘেঁষা হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে ক্রমেই বেশি সংখ্যক মানুষ একমত হচ্ছেন। তা হলো, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থনের যুগের অবসান হওয়া প্রয়োজন।

পত্রিকাটি বিষয়টিকে এমন একটি বিরল প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মিশিগান থেকে নির্বাচিত বামপন্থি সিনেটর আবদুল এল-সায়েদকে একই অবস্থানে এনেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের আগের সমর্থকদের রিপাবলিকান পার্টি ছেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক’।

ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম সিবিএনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে ‘রাজনৈতিকভাবে বিভাজন সৃষ্টিকারী’ বলে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের নাগরিক ও কর্মকর্তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘দৃঢ় ও বিশ্বস্ত বন্ধু’ হারাতে পারে ইসরায়েল।

‘শোনা উচিত ছিল’
ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল ডেস্ক ভ্যান্সের এক্স পোস্টের পাশাপাশি জর্জিয়ার সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিনের একটি পোস্টের বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গ্রিনের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় রিপাবলিকানরা পরাজিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প আমাদের আতঙ্কবাদী বলেছেন, আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন। আর আপনি (ভ্যান্স) নীরব ছিলেন এবং ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন, যখন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।’

প্রতিবেদনে গ্রিনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তার এবং ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসনের পরামর্শ ভ্যান্স ও ট্রাম্পের শোনা উচিত ছিল।

‘রাজনৈতিক দায়’ হয়ে উঠছে ইসরায়েল ইস্যু
বামপন্থি সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারার প্রতি ‘দ্ব্যর্থহীন প্রত্যাখ্যান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক যে রাজনৈতিক দায় হয়ে উঠেছে, তা ট্রাম্পও বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বছরের শেষ দিকে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করবেন তিনি। দ্য গার্ডিয়ান এ ঘোষণাকে ট্রাম্পের ‘শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষণাটি সব পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ে। ফিলিস্তিনপন্থিরা একে ‘হতাশাপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থিরা একে ‘গুরুত্বহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান আরও বলেছে, অস্ত্র বিক্রিসহ ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। কারণ, অর্থায়ন অব্যাহত থাকবে এবং তা নজরদারি করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ছবি: সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!