আইন-অপরাধ প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের টিকিটে লক্ষীপুর রামগন্জ-১ আসনে ২০১৮ ও ২০২৪-এর সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েও মামলা ও গ্রেপ্তার হতে হয়নি আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ও আনোয়ার খান মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্ণধার সাবেক এমপি আনোয়ার হোসন খানের।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমের মনোসীত রামগন্জ থানার সহ-সভাপতি আনোয়ার খান দলীয় টিকিটে এমপি হয়েছিলেন দু’বার। তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন শেখ হেলার ভাই শেখ জুয়েল। এখন তার বন্ধু ও রাজনৈতিক গুরুরা সবাই পলাতক থাকলেও আনোয়ার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বসে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
রাজনৈতিক সুত্রগুলোর মতে ড. ইউনূস ও চলমান বিএনপি সরকারের শাসনামলে কার আর্শিবাদে আওয়ামী আনোয়ার খানের গায়ে একটু আচঁড়ও লাগলোনা. কোনো মামলার আসামীও হলো না। তিনি নিরাপদে আনোয়ার খান মর্ডাণ হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিকসহ বিভিন্ন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুত্র জানায় রাজধানী ধানমন্ডি-শান্তিনগর-ফকিরাপুল ও তার নির্বাচনী এলাকা রামগন্জে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী আনোয়ার খান।
আওযামী লীগের টিকিটে পরপর দুই বার দলীয় এমপি হয়ে হাসপাতাল ও নার্সিং ইন্সটিটিউটসহ নানারকম ঠিকাদারির ব্যবসায় বিস্তার ঘটলেও নৌকার সৈনিকদের বিপদে নেই আনোয়ার খান।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রী-কর্মি-সমর্থকরা গ্রেপ্তার হলেও আনোয়ার খান ধানমন্ডিতে নিরাপদে বসে রমরমা ব্যবসা করছেন ও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ধানমন্ডির ৮ নম্বর এলাকাজুড়ে হাসপাতালের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। খুলেছেন একের পর এক নতুন নতুন বিভাগ এবং গড়ে তুলেছেন একাধিক ভবন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্টানে ও গায়ে সামান্যতম আচঁড়ও লাগেনি। কিন্তু তাকে যারা এমপি নির্বাচিত করতে দিনে-রাতে ভোটচুরি করেছিল সেইসব আওয়ামী লীগ কর্মি-নেতারা জেল-জুলুম খাটলেও আনোয়ার খান তাদের পাশে নেই। তিনি আছেন তার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর কাছ থেকেও কোটি কোটি টাকার নদী খননের ঠিকাদারি কাজও নিয়ে ছিলেন আনোয়ার খান। শুধু কি তাই আনোয়ার খানের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মি টু’র ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করে দিয়েছিল আনোয়ার খান মেডিকেলের এক ছাত্রী। এনিয়ে তখন ব্যপক হইচই ও সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল।
এদিকে পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার খান মডার্নের হাসপাতালের বাণিজ্য করা নিয়ে ধানমন্ডির আবাসিক এলাকায় চলছে নানারকম সমালোচনা।
জানা গেছে রাজধানীর ধানমন্ডির কথা শুনলেই এক অভিজাত আবাসিক এলাকার চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে।এখানে লেক আছে। আছে সবুজে ঘেরা পার্ক। আশির দশকেই এই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হারিয়েছে তার বৈশিষ্ট্য। তখন থেকেই এই এলাকার কিছু অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ভবনগুলোতে চলছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। এর মধ্যে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কেই মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা পদে পদে আইন লঙ্ঘন করে হাসপাতাল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যস্ততম এলাকা রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের দুই পাশে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ,আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টার ও আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)। সুত্র জানায় প্রায় ৪৫ কাঠা জমিতে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাজউক বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজউক অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। চলমান..

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :