ডেইলি খবর ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহল দেবেন সেনাসদস্যরা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার এক লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রæয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত ও আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বাড়তি সেনাসদস্য মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে এই বাড়তি সেনা মোতায়েন কার্যকর রয়েছে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
এবার সেনাসদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সে সময় তারা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন এবং প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হতেন।
মনজুরুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সে কারণেই সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেয়া হয়েছে, যা আগের নির্বাচনে ছিল না।
তিনি আরো জানান,সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যকে ব্যারাকে রেখে বাকি সদস্যদের মাঠে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং জনগণের আস্থার জায়গাটি শক্ত করা সম্ভব হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান বলেন,সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজনীয় যানবাহন কিছুটা অপ্রতুল হওয়ায় অসামরিক প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে সব জায়গায় পর্যাপ্ত গাড়ি পাওয়া না যাওয়ায় প্রয়োজনে বেসরকারিভাবে গাড়ি ভাড়া করেও সেনাসদস্যদের টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সেনাসদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাঠে কাজ করছেন উল্লেখ করে সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের এই কর্মকর্তা বলেন, শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই এই পরিশ্রম- ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেনাসদরের সূত্র মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনী পুরো নির্বাচনী সময়জুড়ে টহল, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত থাকবে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :