সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

জাল ভিসা ভুয়া ম্যানপাওয়ার কোটি কোটি টাকার প্রতারণা, নেপথ্যে নায়ক খলিলুর রহমান মাসুম

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

জাল ভিসা ভুয়া ম্যানপাওয়ার কোটি কোটি টাকার প্রতারণা, নেপথ্যে নায়ক খলিলুর রহমান মাসুম

মন্জুর-ই-এলাহী শাহীন: উন্নত জীবনের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায় এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে কয়েকটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র। তেমনি একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্রের মূল হোতা বরিশালের নলছিটির খলিলুর রহমান মাসুম। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে মাসুম ইতিমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। মাসুমের প্রতারণার শিকার লেবানন প্রবাসী কুমিল্লার জাইদুল, লেবানস্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বরাবর একটি অভিযোগে করেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ থেকে ১৯ জনকে লেবানন আনার জন্য তিনি মাসুমের সরণাপন্ন হন। সরল বিশ্বাসে কয়েক ধাপে মাসুমের নির্দেশনায় বাংলাদেশী বিভিন্ন মানুষের একাউন্টের মাধ্যমে মাসুমকে তুলে দেন ৭০ লক্ষ টাকা। কিন্তু প্রতারক মাসুম জাল ভিসা, ভুয়া ম্যানপাওয়ার, জাল বিমান টিকেট দিয়ে প্রতারণা করে জাইদুলকে সর্বশান্ত করে দেয়। জাল ভিসা সনাক্তকরণের পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মাসুম। প্রতারণার শিকার জাইদুল মাসুমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে মাসুমের পরিবার তাকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে ।একপর্যায়ে মাসুম তাকে নানাভাবে হয়রানি করে। কৌশলে মাসুমের কাছে টাকা চাইতে গেলে মাসুম তাকে আটকে মারধর করে বলেও বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগে জানায় জাইদুল। এ বিষয়ে জাহিদুল প্রতিবেদক কে বলেন আমি পথের ফকির হয়ে গেছি, আমি দেশে যেতে পারি না মানুষের টাকা আমি কিভাবে পরিশোধ করবো, আমি মরে গেলেও বেঁচে যাই। জাহিদুল আরো জানান আমি শুধু একা না আমার মত আরও অনেকেই এই নাসিমের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে। জাইদুল এর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোয়াখালীর একজন লেবানন প্রবাসী মহিলা কর্মী প্রতিবেদককে জানান, মাসুম তার থেকে ৯ লক্ষ টাকা এবং তার বোনের থেকে ১৪ লক্ষ টাকা নিয়ে জাল ভিসা জাল ম্যান পাওয়ার ও জাল বিমান টিকিট দিয়ে তাদের সাথেও প্রতারণা করে। বর্তমানে তারাও অসহায় হয়ে এই টাকা উদ্ধারের জন্য অসংখ্যবার মাসুমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন। তারা জানান তাদের মত আরও অনেক ভুক্তভোগী আছে যারা মাসুমের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে আরও বেশ কিছু ভুক্তভোগী তথ্য প্রতিবেদকের কাছে আসে যেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলমান। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য মতে মাসুমের এই প্রতারণার কাজে বাংলাদেশ থেকে যে সকল ব্যক্তিরা সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে শাহাদাত, নুরু মিয়া, হেলাল উদ্দিন, রাকিব সরকার মাসুমের স্ত্রী মাহফুজা বেগম অন্যতম। এ বিষয়েও প্রতিবেদকের অনুসন্ধান চলমান। প্রতারণার বিষয়ে কথা বলতে মাসুমের লেবাননসত  নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে  ফোন রিসিভ করেনি মাসুম। মাসুমের স্ত্রী মাহফুজার নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও সেও ফোন রিসিভ করে নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মাসুম শুধু লেবানন নয় বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছে। তথ্য মতে জানা যায় এই প্রতারণার সুবিধার্থে মাসুম একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করে থাকে। কোথাও খলিলুর রহমান, কোথাও মাসুম, কোথাও বিল্লাল, আবার কোথাও আলী বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। এই শক্তিশালী প্রতারক চক্রের মূল হোতা মাসুমের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে মাসুমের মত প্রতারকরা সাধারন মানুষের সাথে আরও বেশি প্রতারণার সুযোগ পাবে  সংশ্লিষ্ট সকলের অভিমত। মাসুমের মত এই ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীরা লেবাননসত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান আরো বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!