শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ছুটবে ইলেকট্রিক ট্রেন !

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ছুটবে ইলেকট্রিক ট্রেন !

ডেইলি খবর ডেস্ক: স্বপ্নের বাস্তবায়নে এবার হাওয়ার গতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম চলবে ইলেট্রিক টেন। কালো ধোঁয়ার যুগ পেরিয়ে নতুন গতিতে ছুটবে ট্রেন। অপেক্ষা এখন বৈদ্যুতিক রেলের। এরইমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে পৌনে চার হাজার কোটি টাকার নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রকল্প। এডিবির অর্থায়নে ২০২৮ সালের মধ্যে এই রুটে ঝুলবে ওভারহেড ক্যাটেনারি তার, গড়ে উঠবে পাওয়ার সাব-স্টেশন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, ১৬ সেট রোলিং স্টক কিনব। একটা সেটের সঙ্গে মিনিমাম ৬টি কোচ সংযুক্ত থাকবে। আমরা যদি এই ইলেকট্রিক ট্রাকশনটি চালু করতে পারি, প্রচুর রেভিনিউ আয় করা যাবে।

রেলওয়ে বলছে, নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর প্রকল্প মূলত পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের প্রথম কৌশলগত ভিত্তি। ধারাবাহিকভাবে এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে। এই লক্ষ্যে টঙ্গী-আখাউড়ার ৯৭ কিলোমিটার লাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে রেলওয়ে, যার খরচ ধরা হয়েছে সাড়ে ১৪ হাজার টাকার বেশি ১৪ হাজার ৫৮৭ কোটি। আর মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত।

অন্যদিকে, লাকসাম-চট্টগ্রামের ১৩১ কিলোমিটার পথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার ডিপিপি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়। যেখানে নতুন লাইন নির্মাণের সময়ই নেওয়া হবে ইলেকট্রিক ট্রাকশন প্রকল্প, বসানো হবে ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা। এই প্রকল্পটিও শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে।

ফকির মো. মহিউদ্দীন আরও বলেন, আশা করছি, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে ব্রডগেজ রূপান্তরের কাজটি সম্পন্ন হবে এই করিডোরে। ইলেকট্রিক ট্রাকশনের কাজটিও ওই প্রকল্প চলার মধ্য থেকেই শুরু করব, যাতে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে ইলেকট্রিক ট্রাকশনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে পারে।  

এরইমধ্যে আখাউড়া-লাকসামের নতুন ডাবল লাইন চালু হয়েছে। একই সাথে ঢাকা-টঙ্গী লাইনেও তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ট্র্যাক। তবে দ্রুতগতির ট্রেন নিরাপদে চালাতে ঝুলন্ত ক্যাটেনারি তার এবং সব লেভেল ক্রসিংয়ে অটোমেটিক সিগন্যাল বসানো বড় চ্যালেঞ্জ—বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যপক হাদিউজ্জামান বলেন, ৫২ কিলোমিটার যেটি রান করব, যে রোলিং স্টক নিয়ে আমরা কথা বলছি, সেটি কিন্তু আবার দূর-পাল্লার জন্য তৈরি করা হয় না। রোলিং স্টকের রিকোয়েরমেন্টটা কী হবে, তার স্পেসিফিকেশন কী হবে, সেটি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা ও পরিকল্পনা এখনই থাকতে হবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, ভবিষ্যতে এই ইলেকট্রিক ট্রেনের সেবায় যুক্ত হতে পারে পর্যটন শহর কক্সবাজারও।প্রতীকী ছবি


 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!