সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

স্বৈরাচারের পথ তৈরি ও শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

স্বৈরাচারের পথ তৈরি ও শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অযৌক্তিকভাবে সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ তৈরি হলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ের পাশে আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি স্বৈরাচার আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে তা অবশ্যই দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। এটি জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে। তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধী দল কীভাবে সরকারের বিরোধিতা করছে, তা জনগণ দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অবশ্যই সরকারের বিরোধিতা করবেন। কিন্তু সেই বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার পুরোনো সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নেব?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটাররা বিএনপিকে দেশ পরিচালনা ও অন্য দলগুলোকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল রাখার উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা, মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা।

দোষারোপের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বা বিরোধী দল, কোনো পক্ষেরই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার একক অধিকার নেই।

দোষারোপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দল, উভয়ই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সম্মান জানাতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের এই মঞ্চে বসার দরকার ছিল না, কিন্তু সত্যিকারভাবে যদি আপনারা জুলাইকে ধারণ করেন, আপনারা তো এসে জুলাই শহীদদের মানুষগুলোর সঙ্গেও বসতে পারতেন, আমরা তো আজকে আপনাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না।’

সোমবার সচিবালয়ের পাশে আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো, আহত হওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা আজ পরিচিতি পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারত, তারাও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে জননিরাপত্তা, জাতীয় স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দেশের শিশুদের ভবিষ্যতের মতো বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ উভয় পক্ষকে সংসদে পাঠিয়েছে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরা, বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক করা এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য, যাতে নাগরিকেরা নির্বিঘ্নে দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি বলেন, জনগণ স্থিতিশীলতা, শান্তি ও অগ্রগতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার চর্চার সুযোগ চায়।

তারেক রহমান রাজনৈতিক দলগুলোকে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না করার আহ্বান জানান।

এ সময় তারেক রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ডেঙ্গুবিরোধী সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এডিস মশা সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পার্থক্য করে না। তিনি জানান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউট, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে প্রায় দেড় মাস ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, আমি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বলতে চাই, এডিস মশা সরকারি দল বা বিরোধী দল চেনে না। দেশের ও জনগণের স্বার্থে আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। তিনি মানুষকে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, প্রথম কয়েক দিন ভোরবেলা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যেভাবে চোখে পড়ত, এখন তা কম দেখা যাচ্ছে।

ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের নকশা তৈরির সময় গাছপালা ও প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমানোর জন্য স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজন মেটাতে উন্নয়ন জরুরি। তবে যথাসম্ভব পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করতে হবে।

ওসমানী উদ্যান পরিষ্কার রাখার এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশদূষণের কারণে রোগবালাই বাড়ে। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ অন্যরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, সংসদ সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান ও শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তিও বক্তব্য দেন।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!