শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

দেশী সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল-আটা-ময়দাসহ আরও কিছু নিত্যপণ্য

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

দেশী সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল-আটা-ময়দাসহ আরও কিছু নিত্যপণ্য

ডেইলি খবর ডেস্ক: রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে চাল, আটা, ময়দা, ডাল ও মসলার মতো মৌলিক পণ্যগুলো এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। ঢাকার অন্যতম  ঠাটারিবাজার,শান্তিনগর, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুনবাজার ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দল ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 
এছাড়া, ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুমুখি ৭০ টাকা, কাঁকড়ল, বেগুন ৭০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওযা যাচ্ছে। আর পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে শীতের আগাম সবজি শিমের দাম কমলেও এখনো তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিমের কেজি ১৬০ টাকা পর্যন্ত ছিল। আর আকারভেদে ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রতি কেজি টম্যাটো কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা বেলায়েত বলেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় সবজির দাম কিছুটা কমতির দিকে। তিনি বলেন, এখন নতুন করে আর সবজির দাম বাড়বে না।

এদিকে সবজিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও চাল, আটা, ময়দা আগের বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। এরপর থেকে দাম আর কমেনি। বাজারে খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ ও প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ  বেড়েছে। আর খোলা ময়দা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ ও ৬ শতাংশ বেড়ে তা ৭০ টাকা এবং ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আটা, ময়দার পাশাপাশি ছোলার দামও বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ছোলা মানভেদে ১১০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে অন্যান্য ডালের মধ্যে বড়দানা মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং ছোটদানা মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে।

এক মাসে আদার দাম বেড়েছে ৩৭.৯৩ শতাংশ-গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদার দাম। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বাজারে বর্তমানে আমদানি করা আদা ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এর দাম ছিল ১২০ থেকে ১৭০ টাকা। দেশি আদার দামও বেড়েছে। এক মাসে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতার একটি বড় দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। দেশে বছরে আদার চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ২ দশমিক ৫৫ লাখ টন এবং আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ লাখ টন। ফলে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২০ লাখ টনের ব্যবধান রয়েছে।

মুরগি-ডিমে কিছুটা স্বস্তি-সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ৫ থেকে ১০ টাকা কম। সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৫০ টাকা ছিল।ফাইল ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!