শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কমিশনিং লাইসেন্স পেল. শিগগির ফুয়েল লোডিং

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কমিশনিং লাইসেন্স পেল. শিগগির ফুয়েল লোডিং

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প  অবশেষে কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে। এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট। কেন্দ্রটি চালু করতে লাইসেন্স সংক্রান্ত আর কোনও বাধা থাকল না। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। কয়েকদফা সময়সীমা পেছানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার কথা ছিল। সেজন্য রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছিল উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এই কর্মসূচি বাতিল হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, জ্বালানি লোড করার আগে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিটি ধাপ শেষে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ইস্যু করে থাকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি লোড করার আগে লাইসেন্স নিতে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটির অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এরপরই আপত্তি তোলে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
একটি সূত্র জানায়, লাইসেন্স নিতে রাশিয়ান ঠিকাদার এবং প্রকল্পের কর্মকর্তারা নানান ভাবে চেষ্টা তদবির চালায়। কিন্তু পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল শতভাগ নিরাপত্তা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়া হবে না।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কমিশনিং লাইসেন্স বৃহস্পতিবার লাইসেন্স দিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সব কাজ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ। আশা করছি এপ্রিলেই ফুয়েল লোড করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি লোডিং শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া (চেইন রিঅ্যাকশন) শুরু করতে আরও দুই মাস সময় প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে জ্বালানি লোডিংয়ের পর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে অন্তত ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!