শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারি বরাদ্দের বাসায় ভাড়াটে থাকলে বরাদ্দ বাতিল, সরাতে হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১২:২৫ এএম

সরকারি বরাদ্দের বাসায় ভাড়াটে থাকলে বরাদ্দ বাতিল, সরাতে হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে

ডেইলি খবর ডেস্ক: সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে নিজে বসবাস না করে অন্যের কাছে বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন এমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। ৩১ অক্টোবর (শনিবার) মধ্যে সব ভাড়াটে ও সাবলেটগ্রহীতাকে সরিয়ে সরকারি বাসায় নিজেকে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোনো কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসায় নিজেরা বসবাস না করে একটি বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থি।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীরা নিজেদের নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক কোনো অংশই অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিতে পারবেন না। ইতোমধ্যে যারা এভাবে বাসা ভাড়া দিয়েছেন, তাদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব বাসা যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সেখানে বসবাস না করে অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিবনিবাস ও ৭৯টি বাংলো রয়েছে। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা রয়েছে। গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি এবং গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি বাসা বরাদ্দ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা এবং শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ১২ ও ১৩ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট রয়েছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!