বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে-প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে-প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের কয়েকটি কল-কারখানায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সরকারি আদেশ দেখুন

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান ও শান্তিতে থাকতে চায়। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল বলে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, বিএনপি ৭১-কে ধারণ করে, বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে। সেই কারণে ২৪-এর শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের স্মরণে বিএনপি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে এক কথা বললেও কাজে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেশের জনগণ এখন চায় স্থিতিশীলতা। জনগণ চায় কর্মসংস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে। অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষ রাজনৈতিক অধিকারও চায়।সরকারি আদেশ দেখুন

রাজশাহীর পানির সংকট সমাধানে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের দুটি বড় নদী তিস্তা ও পদ্মায় আমরা ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে পানির সমস্যা দূর করতে পারি। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চল এবং প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজশাহীতে পৌঁছেই আখচাষিদের জন্য সুখবর দেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে বসে ল্যাপটপের বাটন চেপে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করেন। মুহূর্তেই কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যায় প্রণোদনার অর্থ। টাকা জমা হওয়ার বার্তা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পান কৃষকরা।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন, খাল খনন এবং পদ্মা-তিস্তা ব্যারেজসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। আপনাদের শক্তি হচ্ছে বিএনপি সরকারের শক্তি। আপনারা যদি মনে করেন পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করতে হবে, তিস্তা ব্যারেজ প্রয়োজন, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হবে, কৃষক কার্ড চালু করতে হবে, মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিতে হবে, উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করতে হবে এবং খাল খনন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হবে তাহলে জনগণের সমর্থন বিএনপির সঙ্গে রাখতে হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির সহ-সভাপতি ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বাণিজ্য, এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আলিম, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ প্রমুখ।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!