সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সরকারি ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা-সংসদে অর্থমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

সরকারি ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা-সংসদে অর্থমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন রেজল্যুশন কৌশল, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনা, জামানত মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

আজ রোববার সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ এবং আমানত সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করতে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদী নির্মাণ, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ টাকা। এ সংক্রান্ত ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণও সংসদে উপস্থাপন করেছেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২৩ কোটি ২০ হাজার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।

সম্পূরক প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির প্রচারে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা-ও জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুজিববর্ষ ছাড়াও আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের আরও অনেক বিষয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সেগুলোর হিসাব যাচাই করছে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের সঙ্গে আগের প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের তুলনা টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবগুলোর বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছি।’সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!