রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

গোলামের কারণে বিশ্বব্যাংকের আর্ন প্রকল্প থেকে বাদ পরতে পারে ঢাকা আহছানিয়া মিশন !

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

গোলামের কারণে বিশ্বব্যাংকের আর্ন প্রকল্প থেকে বাদ পরতে পারে ঢাকা আহছানিয়া মিশন !

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের অশুভ তৎপরতার কারণে নীতি-নৈতিকতা ও ঐতিহ্য হারানো ঢাকা আহছানিয়া মিশন এবার বিশ^ ব্যাংকের (আর্ন প্রকল্প), গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার কাজের অনুমোদন ঝুকিতে পরেছে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে কাজ প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।গোলাম রহমানের নানা অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা সামনে আসায় ধীরে চল নীতিতে সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পে ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন কাজ করবে বরিশাল বিভাগ এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়।
কেয়ার বাংলাদেশ কাজ করবে ৩ পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে।
ঢাকা আহছানিয়া মিশন কাজ করবে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে।

সুত্র জানায় নানা অভিযোগের কারণে এই তালিকা থেকে শেষ মুহুর্তে ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে পর্যবেক্ষনে রাখা হতে পারে। এবংকি বাদ পরতেও পারে বলে সংশয়-শংকা আছে।

অভিযোগ রয়েছে, দেশ-বিদেশের অনুদানের অর্থ নিয়ে লুকোচুরি। অডিট জালিয়াতি, বিগত সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে নয়-ছয় করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে তথ্য প্রদানে প্রতারণার অভিযোগ। এবং দান-খয়রাতের অর্থ নয়-ছয় করা।

এছাড়াও প্রতিষ্টানের নামে থাকা বিপুল পরিমান সম্পদ রক্ষনা-বেক্ষণের নামে অর্থ লোপাট। এবং জমি বেচা-বিক্রির মাধ্যমে লুটপাট। আরও প্রশ্ন ইঠেছে সার্বক্ষণিক গাড়ির জালানি বাবদ লাখ লাখ টাকা খরচ করা মানবতার সেবার নামে এসব কি ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কাজ ?

এছাড়াও গোলাম রহমানের নানারকম বিতর্কিত কাজের গোপনীয়তা ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় মুখে পড়েছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।

এমন সময়ে সরকারের আর্ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত আর্ন নামের বিশ^ব্যাংকের একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করার জন্য ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে মনোনীত করার আগে আরও গভীরে তদন্ত করার প্রয়োজন আছে বলে একাধিক মানবাধিকার সংস্থার সুত্রগুলো মনে করে। যদিও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এটি প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প।

সুত্র জানায় প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় না নিয়ে পূর্বাস্থা বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশ করে। এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত হন। এতে যেসব প্রতিষ্ঠান সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে তারা হলো- ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন।

এনজিও সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রনালয়ের সুত্র জানায় ঢাকা আহছানিয়া মিশন মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুনাম অতীতে ছিল, বর্তমানে নাই।

এনজিওটিতে নীতি-নৈতিকতা হারানো ব্যক্তিবর্গ নির্বাহী কমিটিতে সংযোজন-বিয়োজন হয়ে সুনাম নষ্ট করছে বলে অভিযোগ আসছে।

বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. খলিলউন্নাহ ও ট্রেজারার ড. এম এ জলিল। এ তিন জনকে কেউ মানবাধিকার কর্মি-সেবক মনে করে না। তারা বদ মেজাজী, দূর্নীতি লালনকারী ও লোভী প্রকৃতির মানব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের মিডিয়ায় তাদেরকে নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ আসছে দুর্নীতি লুটপাটে জড়িয়েছেন খোদ ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। অভিযোগ রয়েছে তিনি তার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ নামক এক জনকে সাথে রেখে নানারকম অনিয়ম ও অর্থ হাতাতে কাজে লাগিযে নিজে সুবিধা নিচ্ছেন। অভিযোগে আরও একজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তার নাম রফিকুজ্জামান রফিক।

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো জানায়. বিগত বছরগুলোতে দেশ-বিদেশের দান-খয়রাতের পাওয়া অর্থ মানবাধিকার সেবাসহ নানারকম উন্নয়ন প্রকল্পের নামে খরচ দেখিয়ে লুটেপুটে খেয়েছে গোলাম সিন্ডিকেট।

উল্লেখ করার মত সবচেয়ে বড় অভিযোগ রয়েছে দরিদ্রদের স্বাবলম্বি কিংবা সহায়তাকরার নামে আসা  দেশী বিদেশীদেও দেওয়া অনুদানের অর্থ দিয়ে একটি অঙ্গ-প্রতিষ্টান গড়ার নামে আলোকিত বাংলাদেশ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।

এতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করে ফেলেছে। য়া কখনোই আর ফেরত পাওয়া যাবে না। প্রদানকৃত এ অর্থ আলোকিত বাংলাদেশকে লুন হিসাবে দেখানো হয়েছে। দান-অনুদানের অর্থ লুন দেয় কিভাবে?

শুধু কি তাই, ওই পত্রিকায় কর্মরত সংবাদকর্মিদের বিরুদ্ধে নানারকম হয়রানি, মামলা-হামলাসহ অমানবিক আচরন করেছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন। এবং বেতন-ভাতা না দিয়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন হচ্ছে এবার বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নের প্রকল্পের অর্থ পেলে তারা তা সঠিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়-সন্দেহ। বিষয়টি এখন ওপেন-সিক্রেট। চোরের কাছে মুরগী বর্গার মতো। কাজির গরু কাগজে আছে, গোয়ালে নেই!

সুত্র জানায় বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট’ (আর্ন) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৯ লাখ যুব-যুব নারীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

এতে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (নিট) এই তরুণদের স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রকল্পটির আওতায় কাজ করবে ৪টি এনজিও। এ লক্ষ্যে ১০টি প্যাকেজের আওতায় সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে যুব-যুব নারী কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন ৯ লাখ যুবককে (যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী) প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত আর্ন প্রকল্প সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। এবং বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প হলো আর্ন।

জানা গেছে বিশ^ব্যাংকের বাছাইকরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে ৫ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে।

সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮ লাখ যুবক-যুবতীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!