রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

রাজধানীতে ফিরতেও বাড়তি ভাড়া, যানজট

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

রাজধানীতে ফিরতেও বাড়তি ভাড়া, যানজট

ডেইলি খবর ডেস্ক: টানা সাত দিনের ঈদের ছুটির পর কর্মস্থলে ফেরার পথেও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। আজ শনিবার অধিকাংশ কলকারখানা খুলবে। এর আগের দিন গতকাল শুক্রবার তাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী বাস, ট্রেন, লঞ্চে ছিল উপচে পড়া ভিড়। উত্তরবঙ্গ থেকে ফেরার পথে যমুনা সেতু এবং সেতুর পশ্চিম প্রান্তে দীর্ঘ যানজট হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বিভিন্ন রুটে।
সাত দিনের ঈদের ছুটির পর সরকারি অফিস-আদালত খুলেছে গত মঙ্গলবার। তবে স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাজধানী এখনও ফাঁকা। গতকাল গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী টার্মিনালে দেখা গেছে ঢাকায় ফেরা বাসগুলো যাত্রীতে পূর্ণ। উত্তরবঙ্গ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা ট্রেনের ছাদও ছিল যাত্রীবোঝাই।
মহাখালীতে আসা যাত্রীরা জানান, ফিরতি পথেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আলম এশিয়া পরিবহনে ঢাকায় ফেরা যাত্রী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে বাস নেই। বাসস্ট্যান্ড থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বাইপাস এলাকায় বাস রাখা হয়। সেখান থেকে যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩১০ টাকা। প্রশাসন যাতে ধরতে না পারে, সে জন্য বাসস্ট্যান্ডের বাইরে থেকে বাস ছাড়ছে। পুলিশ দেখেও দেখছে না।
এদিকে শিবালয় পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরি এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গতকাল ছিল ঢাকায় ফেরা যাত্রীর ঢল।  লঞ্চ ও ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা-যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে এসে পরিবহন স্বল্পতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা। 
পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে সেলফি, নীলাচল, শুভযাত্রা পরিবহনের বাসে পাটুরিয়া থেকে নবীনগরের ভাড়া ১২০ টাকা। গতকাল নেওয়া হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া থেকে গাবতলীর ভাড়া ১৮৫ টাকা। গতকাল নেওয়া হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাড়তি ভাড়ার প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হয়। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসচালকরা বলেন, সেলফি বাসের ঘাট সুপারভাইজার সুলতাল আহম্মেদ, নীলাচলের পাটুরিয়া ঘাট সুপারভাইজার নাহিদ শেখ ও শুভযাত্রার তুহিনের নেতৃত্বে ১৪-১৫ যুবক প্রতিটি বাস থেকে জিপির নামে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০  বাস থেকে এ চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। 
সেলফি বাসের ঘাট সুপাভাইজার সুলতাল আহম্মেদ বলেন, ঢাকা থেকে খালি বাস নিয়ে আসতে হয় হয়। এ কারণে বাসচালকরা কিছুটা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। 
নীলাচল বাসের ফোরম্যান নাহিদ ইসলাম বলেন, যাত্রীরা বেশি দিয়ে গেলে আমরা কী করব? আমরা চালকদের নির্ধারিত ভাড়া নিতে বলেছি।  
আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুস ছালাম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছেন।
যানজটের ভোগান্তি-সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়া প্রতিনিধি জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বৃদ্ধিতে যমুনা সেতু ও এর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। 
যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকাগামী যান চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব দ্রুত পশ্চিম অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকামুখী যাত্রী মনোয়ার হোসেন জানান, সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করেও যমুনা সেতু পার হতে তার প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। সাধারণ সময়ে যেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে। 
কর্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর ওপরে ও পূর্ব প্রান্তে যান চলাচল ধীরগতির কারণে এর প্রভাব পশ্চিম অংশেও পড়ে। একই সঙ্গে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ থাকায় যানজট তীব্র হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও দুপুরের পর আবার যানজট বাড়তে থাকে। 
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন শুক্রবার দুপুরে বলেন, উত্তরাঞ্চল থেকে ছয় লেনের সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন এলেও সেতুর ওপর ঢাকামুখী মাত্র দুই লেন দিয়ে পার হতে পারছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই যানজট তৈরি হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৭ হাজার যানবাহন সেতু পার হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আরও প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ যানজট হচ্ছে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথে শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীর ব্যাপক ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। যাত্রীরা ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতেই পারেননি।
বাড়তি ভাড়া, যাত্রী সেজে অভিযান-পাবনার বেড়ায় ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খানের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। যাত্রী সেজে ম্যাজিস্ট্রেট গেলে, তাঁর কাছে বাড়তি ভাড়া দাবি করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাড়তি ভাড়া দাবি করা তিন চালককে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 
নুরেন মায়িশা খান বলেন, ঈদ শেষে কর্মসংস্থলে ফেরা যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!