বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশে বজ্রাঘাতে একদিনে প্রাণ গেল ১২ জনের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১২:৩১ এএম

দেশে বজ্রাঘাতে একদিনে প্রাণ গেল ১২ জনের


ডেইলি খবর ডেস্ক: সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রাঘাতে একদিনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৭ জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৪ জন নিহত হয়েছেন। চ্যানেল ২৪-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত— 
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে বজ্রাঘাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে গরু বাঁধতে গিয়ে বজ্রাঘাতে সৌরভ মজুমদার (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও দুপুরের দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় মারা যান জহির উদ্দিন (২৮)। এ সময় পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে মারা যান সেতারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী। অন্যদিকে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে নিহত হন খালেক হাওলাদার (৫৫)।জামালপুর: বুধবার সকালে জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, মো. শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮)। স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৬টার দিকে শামীম নদীতে মাছ ধরতে যায়। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে সকাল ৯টার দিকে সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ চলার সময় বজ্রপাতে সাগর ইসলামের মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ী: জেলার সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রাঘাতে সুমন মণ্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাজার করতে যাচ্ছিল সুমন। এ সময় বজ্রাঘাত হলে শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।রংপুর: তারাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুর: নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকারের সময় বজ্রাঘাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তার শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা লাশ নদীর তীরে তুলে আনে।
বরগুনা: বরগুনার আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক বজ্রাঘাতের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে বৃষ্টির সময় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের কৃষক নুরজামাল (৫৪) এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার জেলে আল আমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামে বৃষ্টির মধ্যে বিলে মাছ ধরতে যান কৃষক নুরজামাল। মাছ ধরা অবস্থায় হঠাৎ বজ্রাঘাতে তার শরীর ঝলসে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, একই সময়ে পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরছিলেন জেলে আল আমিন। সেখানে আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বগুড়া: বগুড়ার শিবগঞ্জে বজ্রাঘাতে আকবর আলী সরদার (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ছাতড়া গ্রামের মৃত বসারত আলী সরদারের ছেলে। 
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আকবর আলী সরদার মাঠে ঘাস কাটতে ও ধানক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।মানুষের পাশাপাশি বজ্রপাতে গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীসহ জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও ফসলি মাঠে বজ্রপাতের ফলে অন্তত ৫০টিরও বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাত চলাকালে নিরাপদ আশ্রয়ে না থেকে খোলা মাঠে অবস্থান করার কারণেই এই প্রাণহানি বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বজ্রপাতে নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়ে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!