বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা

ডেইলি খবর ডেস্ক: অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসন এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় স্থান পায়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ লর্ড হ্যানসনকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও অংশীদারত্বমূলক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে লর্ড হ্যানসনও একমত পোষণ করেন।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য লর্ড হ্যানসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকের সূত্র ধরে মন্ত্রী নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও পেশাদারত্বের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা কামনা করেন।
তিনি বলেন, একটি জনবান্ধব ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বাস্তুচ্যুত বিপুল সংখ্যক মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্বারোপ করেন।
লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংগৃহীত ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!