অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ১৫ বাংলাদেশিকে দেশে পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাদের দেশে পাঠানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট ঐঋগ৮৫১ ছেড়ে ইসলামাবাদ হয়ে শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছায়।
মিশনের একটি সূত্র কালবেলাকে জানায়, বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের কনসুলার শাখা এসব অবৈধ অভিবাসীর দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছিল। যারা দেশে ফিরে এসেছে,তাদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ বৈধ পাসপোর্টধারী, কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টধারী।
বাংলাদেশ মিশন লন্ডনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক অতীব জরুরি চিঠিতে জানানো হয়, যুক্তরাজ্য থেকে যে ১৫ জন ফেরত আসছেন তাদের মধ্যে ৬ জনের পাসপোর্ট (বৈধ ই-পাসপোর্ট এবং মেয়াদোত্তীর্ণ এমআরপি) রয়েছে বিধায় কোনো প্রকার সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ওই ৬ জনের মধ্যে ৩ জনের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে বিধায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত আসতে ট্রাভেল পারমিটের প্রয়োজন নেই এবং বাকি ৩ জনের বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় তাদের অনুকূলে স্বাক্ষরিত এসওপি অনুযায়ী ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯ জনের পাসপোর্ট না থাকায় তাদের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তার মাধ্যমে ইন্টারভিউ গ্রহণ করে জাতীয়তা/পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং এই ৯ জনকে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হয়েছে।
সেই চিঠিতে আরও জানানো হয়, বিশেষ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় লন্ডনের স্টানস্টেড থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেবে এবং পরে ইসলামাবাদ থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা ১০টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।
সূত্র জানায়, বুধবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অনুবিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে দেশের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসীরা ফেরত আসছেন এবং এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ১৫ অবৈধ বাংলাদেশিকে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশটির হোম অফিস উদ্যোগ নেয়। পরে যুক্তরাজ্য হোম অফিস লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে উল্লেখিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের অনুকূলে ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর জন্য আবেদন করে। তাদের আবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ হাইকমিশন যাদের প্রয়োজন, তাদের ট্রাভেল পারমিট প্রদান করে।
ফেরত আসার তালিকার মধ্যে রয়েছেন-সুনামগঞ্জ,সিলেট, মৌলভীবাজার, লাকসাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঢাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন।
দেশে আসা লোকদের জন্য ইস্যু করা ট্রাভেল পারমিটগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৬ জনের কোনো পেশা উল্লেখ নেই। অর্থাৎ দেশটিতে তারা নির্দিষ্ট কোনো কাজে নিয়োজিত নেই। এ ছাড়া কয়েকজন সে দেশে ওয়েটারসহ নানা কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীও এ তালিকায় রয়েছেন। যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অনেকেই দেশটিতে ভিসার মেয়াদ শেষেও অবস্থান করে, আর তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। এর মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যারা ফেরত আসছেন, তাদের মধ্যে অনেকের বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তারা মেয়াদহীন ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন।
দেশে গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের অভিবাসীদের জন্য ভিসা ইস্যু কমিয়েছে। দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোতেও ভিসা প্রাপ্তির হার কমেছে এবং উন্নত দেশগুলোও তাদের অভিবাস নীতি ক্রমেই কঠোর করছে এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :