শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

২১ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছি স্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

২১ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছি স্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:একুশের রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে, আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহিদকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।’
তিনি বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের এদিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহিদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় শত বছরের শাসন ও শোষণে জর্জরিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরও মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ভাষা শহিদ এবং ৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪ এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবতকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহিদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমি বিশ্বজুড়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাই। আসুন, আমরা দেশে বিদ্যমান ভাষাবৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করি।’তিনি বলেন, ‘আমি সকল ভাষা শহিদের মাগফিরাত কামনা করি। আমি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচিচীর সফলতা কামনা করি।’সংগৃহীত ছবি
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!