আইন-অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে ধানমন্ডির একটি আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। লালবাগ থানার একটি নির্দিষ্ট মামলায় তাকে আদালতে হাজির করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরী বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। ডিবির একটি সূত্র জানায়, তিনি সর্বশেষ ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন, যেখান থেকে আজ সকালে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবির মিন্টো রোডের কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরের দিকে তাকে ঢাকার আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক প্রভাবশালী নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে আশ্রয় গ্রহণকারীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সরকার পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে টানা তিন মেয়াদে এবং সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দীর্ঘ সময় এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও গত বছরের ১৫ আগস্ট সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হককেও খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলাসহ উত্তরা ও বনানী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংসদের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের গ্রেপ্তার হওয়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতে তোলার পর তার বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :