সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক আন্দোলনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

শ্রমিক আন্দোলনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি খবর ডেস্ক: শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাগুলো কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের ওপর আক্রমণ, গাড়ি ভাঙচুর করেছে। কোথাও মিল-কারখানায় আগুন দিয়েছে। কালিয়াকৈরে একটা জায়গায় ঝুট গার্মেন্টসের গোদামে আগুন দিয়েছে। এগুলো সহিংসতার লক্ষণ। এখানে অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে গিয়ে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে তাতে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদেরকে ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

যাতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাহত, গার্মেন্টসের উৎপাদনকে ব্যাহত এবং দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়। তিনি বলেন, এই পাঁয়তারা অনেকেই করছে। আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে সেই সমস্ত কর্মকাণ্ডকে মোকাবেলা করবো। আজকে যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। এছাড়াও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিবে। যেকোনো সহিংসতার তৎপরতাকে তারা আইনের মাধ্যমে মোকাবেলা করবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা শান্তি চাই, শৃঙ্খলা চাই, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি চাই। গার্মেন্টস শিল্পের জনক বলতে পারেন বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তার এই অবদানকে আমরা সবাই স্বীকার করি। আমরা চাই গার্মেন্টস শিল্পের ক্রমাগত উন্নতি হোক এবং আমাদের রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করুক। আমাদের শ্রমিক ভাইদের কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাক, এইভাবে আমরা এগিয়ে যাই। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, রপ্তানি, সমৃদ্ধি কেউ রুখে দিতে পারবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেন গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশে উৎপাদন, উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়, রপ্তানি যাতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় সমস্ত বিষয় লক্ষ্য রেখেই যেন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে। তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।মানচিত্র দেখুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এ সমস্ত সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাই জড়িত না। কোনো সত্যিকার শ্রমিক সংগঠন এ সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণের সঙ্গে জড়িত না। মজুরি বোর্ডে তাদের প্রতিনিধির নাম দেয়া হয়েছে। যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকবে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা মিল চালু রাখেন, উৎপাদন চালু রাখেন। কোনোভাবেই যেন রপ্তানি সংকট তৈরি হয়। আপনারা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে আলোচনা করে কার্যক্রম চালাবেন। আজকে হয়তো কোনো না কোনো কারণে তারা শঙ্কিত হয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে, এটা সাময়িক। এটা হয়তো আজকের দিনের মধ্যেই সমাপ্ত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশে উৎপাদন, উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়। রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সমস্ত বিষয় লক্ষ্য রেখেই যেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে শ্রমিক অসন্তোষের বর্তমান পরিস্থিতি, এর কারণ এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!