আইন অপরাধ ডেস্ক: টানা আড়াই বছর যাবত গুরুতর অসুস্থ হয়ে এখন মৃত্যুশয্যায় আছেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলম।
এদিকে মৃত্যুশয্যায় গুরুতর অসুস্থ সম্পাদকের অনুমোদন না নিয়ে বিপুল পরিমান খরচ করাসহ মোক্ষম সুযোগে বহিরাগত এক প্রতারক ডেপুটেশনে এসে সিন্ডিকেট করে লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে আলোকিত বাংলাদেশ।
লুটপাট,অবৈধ ক্ষমতার অব্যবহারসহ এবং প্রমাণীত নানা অভিযোগ নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট এন্টারনাল অডিট টিম পত্রিকাটির অডিট শুরু করেছে।
পত্রিকাটির একাধিক সুত্র জানায় লুটপাটের তথ্য ঢাকতে এবং অডিট রিপোর্ট নিজের পক্ষে নিতে ও রাখতে ৩ লাখ টাকা সেলামী দিতে প্রস্তুত রয়েছেন ডেপুটেশনে আসা হিসাব রক্ষক আজাদ।
অডিট টিমের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, বিগত সময়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও সম্পাদক-প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া যেসব্ অনিয়ম লুটপাট করা হয়েছে অডিট রিপোর্টে তার সত্যতা তুলে ধরবে তো?
সত্য উদঘটন করতে প্রতিষ্টানের টপ টু বটমের দায়িত্ব থাকাদের সাথে কথা বলে করতে হবে। যার বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তার সাথে কথা বলে সত্য উদঘাটিত হবে না।
অভিযোগ ও প্রশ্ন হচ্ছে,ঢাকা আহছানিয়া মিশনের অঙ্গ-প্রতিষ্টানে একজন বহিরাগত কর্মচারি ডেপুটেশনে কাজ করতে এসে মালিক হলেন কিভাবে?
এসব অবৈধ কর্মকান্ড করছেন কিভাবে? অফিসে ছোট-বড় পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছেন কিভাবে?
কমিশন প্রদান ও পত্রিকায় করেসপন্ডডেন্ট নিয়োগ দিচ্ছেন কার অনুমোদনে?
অভিযোগ রয়েছে অবৈধ লেন-দেনের মাধ্যমে তিনি এসব অবৈধ কর্মকান্ড করছেন?
ঢাকা আহছানিয়া মিশনে হিসাব রক্ষক পদে আবুল কালাম আজাদের অস্থায়ী চাকুরী নিয়ে আলোকিত বাংলাদেশে ডেপুটেশনে এসে কিভাবে স্থায়ী চাকুরী করছেন?
যেহেতু তিনি হিসাব রক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ঢাকা আহছানিয়া মিশনের।চাকুরীও স্থায়ী নয়,চুক্তির মেয়াদও উওীর্ণ।আলোকিত বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলমের নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও গত ২ বছর যাবত কাজ করছেন কিভাবে?
লুটপাট-অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আলোকিত বাংলাদেশে বিগত সময়ে অডিট করতেও দেয়নি আজাদ।তার এই ক্ষমতার উৎস কি?
গুরুতর অসুস্থ অর্ধমৃত সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলমকে অন্ধকারে রেখে গত দুই বছর যাবত কৌশলে পত্রিকাটির আয় লুটে নিচ্ছে একাধিকবার অভিযোগ উঠার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন ?
অভিযোগ রয়েছে ঢাকা আহছানিয়া মিশনে হিসাব রক্ষক পদে চাকরি পেয়ে আজাদ লুটপাটের পরিকল্পনা নিয়ে আলোকিত বাংলাদেশে ডেপুটেশনে চলে আসে।
কাজে যোগ দিয়েই তার বন্ধু রফিকুজ্জানের শলাপরামর্শে কৌশলে প্রতিষ্টানটির দখলদারিত্ব কায়েম করে লুটপাট শুরু করে। যা অব্যাহত আছে।
প্রতিষ্টানটির অর্থ লুটের তথ্য অর্ধমৃত গুরুতর অসুস্থ সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলম কিছুই জানেননা।
কারণ তিনি কানে শুনতে ও বলতে পারেননা,চলাচলও করতে পারেননা।
কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলা হচ্ছে তিনি পদত্যাগ করেছেন। সম্পাদক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে।
অস্বচ্ছতা আর জবাবদিহীতা ছাড়াই আলোকিত বাংলাদেশ চলছে গত ২ বছরের অধীক সময় ধরে।যা প্রতারণার কৌশল।
অভিযোগ রয়েছে দেখ-ভালোর এই শুণ্যতার সুযোগে সম্পাদকের স্ক্যান সাইন ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে ডেপুটেশনে আসা প্রতারক আবুল কালাম আজাদ চক্র।
এদিকে আলোকিত বাংলাদেশ দখলদারিত্ব কায়েম করে সম্পাদক ও প্রকাশকের অনুমোদন না নিয়েই নিজের বেতন বাড়িয়ে নিয়েছেন লাখ টাকার উপরে।সাথে সহায়তাকারিদের মধ্যে কাউকে কাউকে দিয়েছেন ৬৫ হাজার টাকা।
জানা গেছে জীবনে কখনো সাংবাদিকতা না করেই সম্পাদক ও প্রকাশকের অনুমোদন না নিয়েই হিসাব রক্ষক পদ থেকে এক লাফে নিজে নিজেই পদোন্নতি নিয়ে হয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক।
এবং সম্পাদক ও প্রকাশকের অনুমোদন না নিয়ে নিজেই মালিক সেজে অফিস ভাড়া,আইটি খাতের চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করেছেন, লুটেপুটে নিতে চেক স্বাক্ষরও করছেন আজাদ।
অনুসন্ধান করে আরও জানা গেছে এসবই মালিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদ না নিয়েই করছেন আজাদ।এসব করার কথা বা অনুমোদন দেয়ার কথা মালিক কর্তৃৃপক্ষের বা পরিচালনা পর্ষদের। কিন্তু জালিয়াতি-প্রতারণার মাধ্যমে আজাদ নিজেই এসব পলিসি প্রদানের কাজ বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার কাজ নিজেই করে যাচ্ছেন।
ডেপুটেশনে আসা একজন হিসাব রক্ষক প্রতিমাসে লাখ টাকা খরচ করে সারাক্ষণ একটি গাড়িও ব্যবহার করছে।
এছাড়াও নানারকম প্রতিষ্টানের ব্লাঙ্ক ভাওচার এনে নিজের কাছে রেখে সারামাস বিপূল পরিমান টাকা নিজেই ইচ্ছে মতো বিল লেখে টাকা তুলে নিচ্ছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে এসব অভিযোগ অডিট রিপোর্টে পাওয়া যাবে কি-না?
সুত্র জানায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান নিজে সুবিধা নিয়ে আজাদকে দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকান্ডে ও লুটপাটে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। গোলাম রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে দ;ুর্নীতির অভিযোগ।এবং ফ্যাসিবাদের দোসর।
এদিকে আলোকিত বাংলাদেশে দেওয়া গোলাম রহমানের এসব দিক নির্দেশনাও আইনত অবৈধ। এসব দিক নির্দেশনা প্রদানের একমাত্র এখতেয়ার রাখেন সম্পাদক ও প্রকাশক।
তিনিও নেই দুই বছরের অধিক সময় ধরে। কিন্তু প্রিন্টার্স রাইনে তার নাম ছেপে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারকচক্র।
এদিকে তথ্য মন্ত্রনালয়ধীনে ডিএফপির হিসাবে প্রতিদিন ১ লাখ ৫১ হাজার কপি পত্রিকা ছাপার অঙ্গিকার বরখেলাপ করে প্রতিদিন ছাপছে মাত্র ২০০-৩০০ কপি। দেশের কোথাও এ পত্রিকা পাওয়া যায়না। হকারদের কাছেও থাকে না।
সরকারী বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ রেট প্রতি কলাম ইন্চি ৯০০ টাকা করে নিলেও পত্রিকাটিতে ৮ম ওয়েজবোড অনুযায়ী বেতন-ভাতাভুক্ত নেই কোনো সংবাদকর্মি।
প্রশ্ন হচ্ছে পত্রিকাটিতে প্রতারণার ফিরিস্থি অনেক বড় হলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেনো নিতে পারছেনা ডিএফপি?
সুত্র জানায় ঢাকা আহছানিয়া মিশন (ডাম) আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড করে পত্রিকাটি প্রকাশ করে। বর্তমানে এর পরিচালনা পর্ষদ নিস্ক্রিয়। শুরুতে এস আলম গ্রুপ থেকে ৫ বোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবহার করছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে আলোকিত বাংলাদেশের নামে পৃথক ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে নানাভাবে সমস্ত আয় লুটে খাচ্ছে-নিচ্ছে ঢাকা আহছানিয়া মিশনেরই বর্তমান চেয়ারম্যান,প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান ও তার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
এতে সহযোগীতা করছেন ঘুসে অডিট ঠিকাদার রফিকুজ্জামান।অডিট টিমের কাছে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগের সমস্ত সত্য তথ্য উদঘাটিত হবে এ প্রত্যাশাই প্রত্যাশা সকলের। তবে জবাব নাই সংশ্লিষ্টদের।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :