শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

নিত্যপণ্যের দামের চাপ, নিম্ন আয়ের মানুষ কষ্টে

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

নিত্যপণ্যের দামের চাপ, নিম্ন আয়ের মানুষ কষ্টে

ডেইলি খবর ডেস্ক: অল্প-স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আর এক দিনে কাঁচামরিচ কেজিতে বেড়েছে ৬০ টাকা।  আগে থেকেই উচ্চ দামে বিক্রি হওয়া ডিম, ব্রয়লার মুরগি, ডাল, পোলাওর চালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের পাইকারি পর্যায়ে দাম আরও বাড়ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারিতে বাড়লে খুচরা বাজারে দুয়েক দিন পর এর প্রভাব পড়ে।

তবে বাজারে দুটি পণ্যের দাম কম দেখা গেছে। এর মধ্যে আলু কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে কেনা যাচ্ছে।
অনেক দিন ধরে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দামের কারণে কম আয়ের মানুষ বেকায়দায় আছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণাকে কারণ দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ধীরে ধীরে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন– এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে কথা হয় মিজানুর রহমান নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। মোটর ওয়ার্কশপে কাজ করেন মিজান। তিনি বলেন, ‘এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকায় কিনলাম। দুদিন আগে ২০ টাকায় কিনেছি। ডাবল হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দুই গুণ বাড়ছে। তাদের অনেকে দুই-তিন কেজি করে নিয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরাও সুযোগে ১০ টাকার জিনিসের ১৫ টাকা দাম নেবে। কিন্তু আমাদের কী হবে?’

বেসরকারি চাকরিজীবী কামাল হোসেনের দুশ্চিন্তা সংসারের বাড়তি চাপ নিয়ে। গতকাল আগারগাঁওয়ের কাঁচাবাজারে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সমকালকে তিনি বলেন, ৫০ হাজার টাকার মতো বেতন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার কারণে একদিকে পরিবারের কাছে অসহায় মনে হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। এই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রাজধানীর বেগুনবাড়ীর বাসিন্দা মারিয়া বেগম। গতকাল কারওয়ান বাজার থেকে ১৯০ টাকায় এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল কেনেন এই গৃহিণী। তিনি বলেন, ‘বোতলের দাম বেশি। খোলা তেলই কিনি। কিন্তু যেভাবে তেল-আটার দাম বাড়ছে, সংসার চালাইতে দম বাইর হই যায়।’

সবজির দাম বেড়েছে-বাজারে নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে শুধু মিজান, কামাল আর মারিয়া বেগম নন; নিম্ন আয়ের সব ক্রেতারই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। গত মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজারে পটোল, ধুন্দল ও ঝিঙার কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। গতকাল এসব বাজারে সবজি তিনটি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

একইভাবে দুদিনের ব্যবধানে লম্বা বেগুন কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ এবং ঢ্যাঁড়শ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে অন্যান্য সবজির কেজিতেও দর বেড়েছে। গত বুধবার কাঁচামরিচের কেজি কেনা গেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গতকাল কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে নিয়ে আগারগাঁওয়ে ভ্যানে করে বিক্রি করেন আবদুর রহিম। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারে এক দিনের মাথায় সব সবজি পাল্লায় (৫ কেজি) ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।

দাম বাড়ার পর সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক-বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি ছিল। গত বুধবার ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারে চার টাকা বাড়ানোর পর সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে খোলা সয়াবিনের দাম না বাড়ালেও বাজারে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলে সরকার নির্ধারিত দর যথাক্রমে ১৮০ ও ১৬৩ টাকা হলে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে কমবেশি ১৯০ ও ১৭৫ টাকা।

খোলা চিনির দাম বেড়েছে-এভাবে প্যাকেট চিনির চেয়ে খোলা চিনির দর বেড়েছে। প্রতি কেজি প্যাকেট চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও খোলা চিনির কেজিতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা, কিন্তু কোম্পানি ১০৯ টাকায় দিচ্ছে। এতে কেজিতে মাত্র এক টাকা থাকে। তা ছাড়া কোম্পানিগুলো প্যাকেট চিনি কমিয়েছে। ফলে খোলা চিনির চাহিদা বাড়ছে। তিনি বলেন, ডাল, আটা, চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের পাইকারি পর্যায়ে দর বাড়তে শুরু করেছে। খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।
উদ্বেগ আটা-ময়দায়ও-আটা-ময়দার বাজারে উদ্বেগ কমেনি। গত এক-দেড় মাসে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ময়দার কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোলা, ছোলার বুট, মসুর ডালের কেজিতেও ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসে খোলা আটার ৩ শতাংশ ও খোলা ময়দার ১৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। চিনির বেড়েছে ৭ শতাংশ দাম।

ডিম-মুরগির দাম ঊর্ধ্বমুখী-মাস দেড়েক ধরে ডিম-মুরগির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন নিত্যপণ্যের আমদানি ও বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠোর তদারকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়াতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলছে। কোথাও অনিয়ম পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এক অনুষ্ঠানে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, টিসিবির মাধ্যমে মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাজারে যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র খোলা এবং আমদানি ও সরবরাহের ওপর সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!