আইন-অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা-ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের বিচারিক প্রক্রিয়া সামরিক আইনে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। এই দুই আসামি হলেন সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান। তারা বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত।
এর আগে, সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামানের বিচারের বিষয়ে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়া শেষে অগ্রগতি ও ফলাফল আদালতকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইন অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের স্বার্থে সামরিক কর্তৃপক্ষ আসামিদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন।
অভিযোগটি গুরুতর উল্লেখ করে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ভুক্তভোগী যাতে পূর্ণ ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
এজাহার থেকে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল রানা নামে এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আসামিরা শরীফকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনের পুলিশ চেকপোস্টে তিনি সহায়তা চান। তখন পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনসার সদস্য সোহেল রানা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর ছয়জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হলো।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :