ডেইলি খবর ডেস্ক: গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে পার হতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের নিয়ম নেই বলা হলেও সেনাসদস্যের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান খালিদুজ্জামান। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তবে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে জামায়াত প্রার্থী বলেছেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাসের আগে।
ভিডিওতে দেখা যায়,খালিদুজ্জামান যখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতওে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন, তখন তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এ সময় প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ‘ভাই উনি হলেন এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট। ঠিক আছে?’
কোন দলের স্যার? এমন প্রশ্ন রাখেন ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশপথে থাকা এক সেনাসদস্য। তখন জবাবে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর। সেনাসদস্য বলেন, ‘বুঝতে পেরেছি স্যার। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে গান নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই।’ খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারব না?
প্রার্থী আরও বলেন, ‘আপনারা পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করছেন। ৫ আগস্টে অনেকে পায়ে ধরেছে। প্রয়োজনে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলব।’
পরে এমপি পদপ্রার্থী ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলতে চান। খালিদুজ্জামান সেখানে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যকে বলেন, আমার সঙ্গে (ঊর্ধ্বতনের) কথা বলিয়ে দেন।’ এরপর তার কাছে মোবাইলটি দেয়া হয়। খালিদুজ্জামান ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আমি এএম খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী। আমি সেনাপ্রধানের কাছে এটা কমপ্লেইন করতে চাই। আপনাদের অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে নিরাপত্তার জন্য দিয়েছে গানম্যান। আবার আপনি আমাকে যেতে দেবেন না কেন?
শেষে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘এখন আমি বাইরে গিয়ে কী করব। ব্যাক করে দেন। আমি চলে যাই।’ এরপর ওই জামায়াত প্রার্থী গাড়িতে উঠে চলে যান।
এ ঘটনায় ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তিনি বলেন, বেশকিছু দিন আগে (প্রায় এক মাস) ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার, সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সমাধানকৃত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, যাইহোক ওই ঘটনার বিষয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের ভুল বুঝাবুঝি আর না হয় সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকবো ইনশাআল্লাহ।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :