আইন-অপরাধ ডেস্ক: ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক গুরুত্বর অসুস্থ কাজী রফিকুল আলমকে অন্ধকারে রেখে একটি সংঘবন্ধ জালিয়াত ও প্রতারক চক্র কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন, করছেন।
প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান ও তার মাইম্যান হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদ। খোজ নিয়ে জানা গেছে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সরকারী তালিকাভুক্ত সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী রফিকুল আলম গুরুত্বর অসুস্থ অর্ধমৃত অবস্থায় শয্যাসায়িত।
এ অবস্থায় তাকে না জানিয়ে অন্ধকারে রেখে প্রতারকচক্র প্রাইম ব্যাংক, তেজগাঁও শিল্প এলাকার শাখায় জালিয়াতির মাধ্যমে যৌথ-স্বাক্ষরের দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের নামে (চলতি অ্যাকাউন্ট) হিসাব খুলেছে।
এতে চেক সই করার জন্য ৩ জনের নাম রাখা হয়েছে। প্রথমে জন হলেন, প্রফেসর ড.গোলাম রহমান, দ্বিতীয় জন হলেন মো: আবুল কালাম আজাদ এবং ৩য় জন হলেন, ডামে কর্মরত আনোয়ার হোসেন। চেকে নিজে সই না করে আজাদ-ও আনোয়ারকে দিয়ে চেকে সই করান সুচুতুর গোলাম রহমান।
এই ৩ জনের কেউ দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের কোনো পর্যায়েরই সাংবাদিক-কর্মকর্তার পদে নাই। এক কথায় তারা পত্রিকাটির কেউ না। সুত্র জানায়, তারা ৩ জনের মধ্যে প্রফেসর ড.গোলাম রহমান হলেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের দখণ করা প্রেসিডেন্ট, মো: আবুল কালাম তারই হিসাব রক্ষক আর ৩য় জন আনোয়ার হোসেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনেরই উপপরিচালক। এরমধে ডেপুটেশনে হিসাবের কাজ করতে আজাদকে প্রেরণ করা হয়েছে আলোকিত বাংলাদেশে।এই সুযোগে লুটেপুটে খেযে নিচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তারা ৩ জন কিভাবে কোন আইনে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের নামে সম্পাদক ও প্রকাশককে অন্ধকারে রেখে পৃথক অ্যাকাউন্ট খুলে জমা-উওোলন বা বেতনের নামে লাখ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন?
বলা হচ্ছে আলোকিত বাংলাদেশ থেকে সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ থেকে কাজী রফিকুল আলম আড়াই বছর আগে পদত্যাগ করেছেন। তাহলে তার নাম প্রিন্টার্স লাইনে ছেপে প্রতারণা করা হচ্ছে কেন? গত আড়াই বছর ধরে সম্পাদক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন বলে তার নাম ছেপে এসময়ে কয়েক কোটি টাকা আয় করে বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্টান পরিচালনার নামে লুটে নিয়েছে চক্রটি।
অসুস্থ সম্পাদক প্রতিবাদ করতে পারছেননা বলেই প্রায় সবার সঙ্গেই প্রতারকচক্রটি বেপরোয়া আচরন করছেন।
এদিকে পত্রিকাটির একাধিক সুত্র জানায় সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী রফিকুল আলমের নিয়োগকৃত ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামীম সিদ্দিকী ও সম্পাদক নিজে যাদেরকে নিয়োগ পত্র দিয়েছেন শুধু তারাই বৈধ। এ দু’জনের বাইরে যারা সম্পাদকের স্ক্যান সাইন ব্যবহার করে নিজেদেরকে আলোকিত বাংলাদেশের স্টাফ পরিচয় দিয়ে কিংবা নিজের নিয়োগ নিজে দিয়ে বেতন নিচ্ছেন তারা অবৈধ।
এক্ষেত্রে প্রাইম ব্যাংক তেজগাঁও শিল্প শাখা থেকে বা তাদের অনলাইনের যে কোনো শাখা থেকে এই চক্রের স্বাক্ষরে চেক পাস করাও হবে বেআইনী। অখিজ্ঞ মহল মনে করেন প্রাইম ব্যাংকের তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও পান্থপথ শাখার উচিত হবে আলোকিত বাংলাদেশের যারা বেতন নিচ্ছেন কিংবা যাদের নামে অ্য্কাাউন্ট খোলা হয়েছে বা হচ্ছে তার আগে সম্পাদক কাজী রফিকুল আমল ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামীম সিদ্দিকী’র স্বাক্ষর করা নিয়োগপত্র পনীক্ষা-নিরিক্ষা করেই করতে হবে। সুত্র জানায় কাজী রফিকুল আলমের স্ক্যান স্বাক্ষরকরা ফটোকপির নিয়োগপত্র জমা দিয়ে প্রতারকচক্র বেতনের নামে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
জালিয়াত চক্রটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে সম্পাদকের স্ক্যান স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারনা করে যাচ্ছেন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী রফিকুল আলমকে না জানিয়ে চক্রটির হোতা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদ অবৈধভাবে নিয়োগপত্র প্রদান করছেন, বেতনবৃদ্ধি ও নিজেরাই পদন্নোতি নিয়েছেন। আলোকিত বাংলাদেশের সরকারী-বেসরকারী বিজ্ঞাপনের চেক প্রাইম ব্যাংক তেজগাঁও শিল্প এলাকার শাখায় জমা দিয়ে তুলে নিচ্ছেন।
সুত্র জানায় আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের অধীনে থাকা দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের আয় থেকে তার হিসাবরক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদকে দিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলে খরচ করাচ্ছেন গোলাম রহমান। যা আলোকিত মিডিয়া লিশিটেড কিছুই জানেনা বলে জানা গেছে।
সুত্র জানায় পত্রিকাটির সম্পাদক প্রকাশক কাজী রফিুল আলম গত ২ বছর আগেই পদত্যাগ করেছেন বলে বলা হলেও গোলাম রহমান কৌশলে নিজের ফায়দা লুটতে পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে কাজী রফিকুল আলমের নাম এখনো ছাপছেন। কিন্ত কাজী রফিকুল আলম এসব প্রতারক চক্রের প্রতারণার কোনো তথ্যই তিনি জানেননা।
তিনি গুরুতর অসুস্থ, চলাচল করতেও পারেন না, কথাও বলতে পারেননা। তার নাম ব্যবহার করে গোলাম সিন্ডিকেট চক্র গত ২ বছরে ১০ কোটি টাকারও বেশী উপার্জন করে নিয়েছেন গোলাম-আজাদ-রফিকুজ্জামান চক্রটি। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে হামলা-মামলার ভয় দেখান গোলামচক্র।
সুত্রে পাওয়া নথিতে দেখা যায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন থেকে মো: হাবিবুর রহমান, উপ-পরিচালক, মানব সম্পদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত সূত্র ডাম/এইচ. আর/১০১. ৭/২০২২-৬০৯১। গত ০৬/০৬/২০২২ ইং তারিখে সর্বসাকুল্যে ৪৫,০০০/-হাজার টাকা বেতন নির্ধারন কওে আলোকিত বাংলাদেশে হেড (অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড অ্যাডমিন) হিসাবে ডেপুটেশনে প্রেরণ করা হয়েছে।
তথ্য গোপন করে পত্রিবায় কাজী রফিকুল আলমের নাম প্রিন্টার্স লাইনে এখনো ছেপে যাচ্ছেন গোলাম-আজাদ গং। গোলাম রহমানের এমন জঘণ্য প্রতারনা ও অপরাধের তথ্য কাজী রফিকুল আলম এখনো কিছুইু জানেননা। তিনি গুরুতর অসুস্থ। কানে শুনেননা, কথা বলতে পারেননা।
অভিযোগ রয়েছে গোলামের মাইম্যান আজাদ আলোকিত বাংলাদেশ প্রাইম ব্যাংক তেজগাঁও শিল্প এলাকা শাখা অ্যকাউন্ট থেকে মাসিক প্রায় এক লাখ টাকা বেতন তুলে নিচ্ছেন অবৈধভাবে। শুধু কি তাই, হিসাব বিভাগের গোলাম মোস্তফা, হাসান আল বান্নাসহ আজাদ প্রতিমাসের বেতন মাসের প্রথম সপ্তাহেই অবৈধভাবে তুলে নিয়ে নিচ্ছেন। তাদের কোনো বেতন বকেয়া নাই। অফিসের অন্যান্যদের বেতন বকেয়া রেখেছেন বলে জানা গেছে। এসব অপরাধের বিষয় আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদও জানেনা বলে জানা গেছে।
এদিকে আজাদের বন্ধু কোম্পানি সেক্রেটারি মো: রফিকুজ্জামান এই প্রতারক চক্রের নেপথ্যের মূল হোতা বলে ডামের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের গড়ে তোলা প্রতিষ্টান ও সম্পদের উপর বসে গোলাম তার সিন্ডিকেট নিয়ে লুটে-পুটে খাচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেওয়ার পায়তারাও করছে। গোলাম রহমান ও তার প্রতারকচক্রের আরও নানারকম ধান্ধাবাজির খবর আসছে..চলবে..

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :