মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিহারে গঙ্গার পনি বাড়ছে,এবার ফারাক্কার গেট খুলতে পারে ভারত

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

বিহারে গঙ্গার পনি বাড়ছে,এবার ফারাক্কার গেট খুলতে পারে ভারত

ডেইলি খবর ডেস্ক: ভারতের বিহারে গঙ্গার পানি বাড়ায় ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিতে অনুরোধ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি এ অনুরোধ জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি জানান।

এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্য এলাকায় বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হতে পারে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেছেন, গঙ্গার পানি বাড়ছে এবং বিহারে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে যাচ্ছে। সম্রাট চৌধুরীর দাবি, ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানির প্রবাহ বাড়বে। এটি বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে দাবি করেছেন তিনি। সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে ফারাক্কা ব্যারাজ ও গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন ভারতের জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউয়ের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় ঝা। তিনি বলেছেন, চুক্তিটি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়। সঞ্জয় ঝা বলেন, চুক্তিটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে ৩০ বছর পূর্ণ করবে।  ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের বিষয়টি ১৯৯৬ সালের চুক্তির আওতাভুক্ত। ফারাক্কা ব্যারাজকে কেন্দ্র করে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টনের ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে এই চুক্তিতে।

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাঁধে ভাঙন 
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, এর লাগোয়া উত্তর ওড়িষ্যা এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক ঢলের পানিতে মোগড়া, দক্ষিণ ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের বহু পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ত্রাণও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত: এদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে প্রায় দেড় মাস পর আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোতে পানি লোকালয়ে ঢুকে রাস্তা, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেড় মাস আগে একই বাঁধ ভেঙে তাদের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তারা নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।ফাইল ছবি 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!