বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

বাজারে ক্রেতা কম, তবু সবজির বাজার চড়া

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

বাজারে ক্রেতা কম, তবু সবজির বাজার চড়া

ডেইলি খবর ডেস্ক: ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ পর এখনও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ফেরেনি সেই ভিড়। কারণ শহর ছেড়ে বাড়ি যাওয়া সব মানুষ এখনও কর্মস্থলে আসেননি। ফলে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে ক্রেতা কম থাকলেও বাজারে স্বস্তি নেই। উল্টো, বেশির ভাগ সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম রয়ে গেছে আকাশছোঁয়া।
শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর মো:পুর, নিউমার্কেট জিগাতলা ও রায়ের বাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে সবজি বেচাকেনা কম হলেও বিক্রেতারা দাম কমাতে নারাজ। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, উচ্ছে, করলা, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, বরবটি, ঝিঙাসহ বেশিরভাগ সবজি মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কেবল মিষ্টিকুমড়া (৫০ টাকা), চাল কুমড়া (৬০-৭০ টাকা) ও শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি (৬০-৭০ টাকা)।
দেশি টমেটো প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি গাজর ১৫০ টাকা এবং চায়না গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম উঠেছে ৩০০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে বলে মনে করছেন অনেকে। শজনে ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সবজি নয়, বেড়েছে মুরগির দামও। বর্তমানে বয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কর্ক মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বাজারে আসা ক্রেতারা সবজির দামের ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রায়ের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একাধিক গৃহিণী বলেন, ‘ঈদের পরেও সবজির দাম কমেনি। মাংস তো আর সবসময় খাওয়া যায় না। তাই সবজি কিনতেই হয়, দাম বাড়ুক বা কমুক না কিনে উপায় নেই। এই দামে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।’
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যাচ্ছে না। জিগাতলা বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, ঈদের কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না।তবে অনেকের মতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাজার স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ছবি-সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!